back to top
Sunday, July 12, 2026
Leaderboard Ad Space (728x90) - Responsive
Homeরাজ্য ও রাজনীতি"বাংলায় ভোটের পুরনো সংস্কৃতি এবার বদলাবে", নির্বাচনের প্রাক্কালে কড়া বার্তা পর্যবেক্ষক সুব্রত...

“বাংলায় ভোটের পুরনো সংস্কৃতি এবার বদলাবে”, নির্বাচনের প্রাক্কালে কড়া বার্তা পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তর

পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) বিধানসভা নির্বাচন দরজায় কড়া নাড়ছে। আর এই নির্বাচনকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ যেমন বাড়ছে, তেমনই বাড়ছে সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রবল উদ্বেগ। তবে এবার আর কোনো ধরনের গাফিলতি বা ঢিলেমি বরদাস্ত করতে রাজি নয় ভারতের জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। রাজ্যে একটি অবাধ, শান্তিপূর্ণ এবং ভয়মুক্ত নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে এবার কার্যত কোমর বেঁধে মাঠে নামছে তারা। এই আবহেই এক সর্বদলীয় বৈঠকের পর বিশেষ নির্বাচন পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত (Subrata Gupta) একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছেন, এতদিন ধরে এই রাজ্যে নির্বাচনের যে চেনা অশান্ত সংস্কৃতি দেখা যেত, এবারের ভোটে তা পুরোপুরি বদলে ফেলা হবে। সাধারণ ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেটাই তাদের কাছে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে।

ভারত (India) বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ, আর নির্বাচন হল সেই গণতন্ত্রের অন্যতম বড় উৎসব। কিন্তু গত কয়েকটি নির্বাচনের ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, বাংলায় সেই উৎসব বারবার কলঙ্কিত হয়েছে হিংসা, পেশিশক্তি প্রদর্শন এবং রক্তপাতের কালিমায়। পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে লোকসভা বা বিধানসভা— প্রায় প্রতিটি ভোটেই শাসক দলের বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলি, বিশেষ করে ভারতীয় জনতা পার্টি (Bharatiya Janata Party) বা বিজেপি এবং অন্যান্য বিরোধীরা নির্বাচনী সন্ত্রাসের গুরুতর অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে। বিরোধী কর্মীদের মারধর, বুথ দখল, ভোটারদের ভয় দেখানো এবং রাজনৈতিক কর্মীদের এলাকাছাড়া করার মতো অভিযোগগুলি যেন এ রাজ্যের ভোটে নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমনকী, গত বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী হিংসার ঘটনাগুলি নিয়ে সারা দেশে ব্যাপক তোলপাড় হয়েছিল, যা নিয়ে মামলা গড়ায় উচ্চ আদালত পর্যন্ত। ঠিক এই প্রেক্ষাপটেই নির্বাচন পর্যবেক্ষকের এই আশ্বাসবাণী সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে আশার আলো জোগাচ্ছে।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সর্বদলীয় বৈঠকে নির্বাচন প্রস্তুতির বিস্তারিত রূপরেখা রাজনৈতিক দলগুলির সামনে তুলে ধরা হয়। এই বৈঠকেই পর্যবেক্ষক স্পষ্ট করে দেন যে, গোটা ভোট প্রক্রিয়ার প্রতিটি পদক্ষেপে এবার তীক্ষ্ণ নজরদারি চালানো হবে। যদি কোথাও নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের ন্যূনতম প্রমাণও মেলে, তবে সংশ্লিষ্ট বুথে তৎক্ষণাৎ পুনরায় ভোটগ্রহণের সুপারিশ করা হবে। অর্থাৎ, কোনোভাবেই বেনিয়মকে বিন্দুমাত্র প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।

আরো পড়ুন:  Government garbage transport vehicle used on rent: সরকারি আবর্জনা বহনের গাড়ি ভাড়ায় ব্যবহার! খাদ্যসামগ্রী পরিবহনে উঠল প্রশ্ন, চাঁচলে বিতর্ক তুঙ্গে

শুধু কথায় নয়, কাজেও যে কমিশন কতটা তৎপর, তা তাদের নেওয়া নতুন পদক্ষেপগুলি দেখলেই ভালোভাবে অনুধাবন করা যায়। ইতিমধ্যেই ঘোষণা করা হয়েছে যে, আসন্ন নির্বাচনে রাজ্যের প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ১০০ শতাংশ ওয়েবকাস্টিংয়ের (Webcasting) ব্যবস্থা থাকবে। এর ফলে দিল্লির সদর দপ্তর বা রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের অফিস থেকে সরাসরি প্রতিটি বুথের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা সম্ভব হবে। এছাড়াও, এবারই প্রথমবার কেন্দ্রীয় বাহিনীর (Central Armed Police Forces) প্রতিটি গাড়িতে জিপিএস (GPS) ট্র্যাকার বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো বাহিনীর জওয়ানরা ঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় পৌঁছচ্ছেন কি না এবং টহলদারির দায়িত্ব কতটা নিখুঁতভাবে পালন করছেন, তা কন্ট্রোল রুম থেকে সরাসরি মনিটর করা।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল (Manoj Agarwal) নিরাপত্তার এই নিশ্ছিদ্র বলয় নিয়ে আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচনের প্রতিটি ধাপে সব মিলিয়ে প্রায় ২২০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে, যা অতীতের যেকোনো নির্বাচনের নিরিখেই একপ্রকার নজিরবিহীন। প্রতিটি জেলায় অন্তত দুজন করে পুলিশ পর্যবেক্ষক বহাল থাকবেন, যারা জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলার বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খ খতিয়ে দেখবেন। কলকাতা (Kolkata) সহ অন্যান্য নগর পুলিশ এলাকাগুলির ক্ষেত্রেও একই কঠোর প্রোটোকল মেনে চলা হবে বলে জানানো হয়েছে।

সবচেয়ে বড় কথা হলো, বুথের ভেতরে এবং বাইরে সম্পূর্ণ আধিপত্য থাকবে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাতেই। কোনো অবাঞ্ছিত রাজনৈতিক ব্যক্তি বা দুষ্কৃতী যাতে ভোটারদের ভয় দেখাতে বা প্রভাবিত করতে না পারে, তার জন্য বাহিনী কড়া হাতে ব্যবস্থা নেবে। শুধু তাই নয়, ভোটকর্মী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের পরিচয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তাদের ছবিও রেকর্ড হিসেবে সংরক্ষণ করা হবে, যাতে কোনো বহিরাগত ভুয়ো পরিচয়ে বুথে প্রবেশ করতে না পারে।

এর পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রে থাকছে তিন স্তরের শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয় এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার। অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং উত্তেজনাপ্রবণ এলাকাগুলিতে ড্রোনের মাধ্যমে আকাশপথে নজরদারি চালানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, মাটিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বুটের শব্দ আর আকাশে ড্রোনের সতর্ক নজরদারি— এই জোড়া ফলায় আটকে দেওয়া হবে সমস্ত রকম অশান্তি বা কারচুপির চেষ্টা।

আরো পড়ুন:  Controversy over Tilottama’s mother joining politics: তিলোত্তমার মায়ের রাজনীতিতে এন্ট্রি? বিজেপির প্রস্তাবে জোর জল্পনা, বাড়ছে বিতর্ক

Author

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Demo Ad
Sponsored Links

Most Popular

Recent Comments