বিরোধী দলের সন্দেহভাজনদের পক্ষে সওয়ালের জেরে আইনজীবী সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশ্ন ও অভিযোগের মুখে পড়েছেন সিপিএমের আইনজীবী নেতা বিকাশ ভট্টাচার্য। একমত না হয়ে পাল্টা জবাব দিয়েছেন বিকাশবাবুও।
আয়বহির্ভূত সম্পত্তির অভিযোগ তুলে গ্রেফতার করা হতে পারে! আশঙ্কা প্রকাশ করে হাই কোর্টে গিয়েছেন প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অদিতি মুন্সি ও তাঁর স্বামী তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তী। এর জেরেই প্রশ্ন তুলেছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। পাল্টা বিকাশবাবুর যুক্তি, তিনি যে মামলাটিতে সওয়াল করেছেন, তার সঙ্গে দুর্নীতির কোনও সম্পর্কই নেই। রাজ্যসভার প্রাক্তন সিপিএম সাংসদের কথায়, ‘‘এই মামলার সঙ্গে তো দুর্নীতির কোনও যোগ নেই। নির্বাচনী হলফনামায় একটি ত্রুটি ছিল। সেই সংক্রান্ত মামলায় সওয়াল করেছি।’’
প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক এবং তাঁর স্বামীর হয়ে বিকাশবাবুর সওয়াল নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে সিপিএমের অন্দরেও। যেমন কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে যোগ দিতে যাওয়া দলের এক শীর্ষ সারির নেতার বক্তব্য, ‘‘এই সময়ে এই মামলায় বিকাশদা না-জড়ালেই পারতেন!’’ অন্য এক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যের আবার বক্তব্য, ‘‘আমি বিকাশদাকে যত দূর চিনি, তাঁর প্রকৃতি সম্পর্কে যত দূর জানি, তাতে এইটুকু বলতে পারি, দুর্নীতির গন্ধ থাকলে তিনি মামলা নিতেনই না।’’
বিকাশবাবুর সওয়াল নিয়ে বাম মহলে বিতর্ক নতুন নয়। অধুনা প্রয়াত মুকুল রায় বিজেপিতে থাকার সময়ে, তাঁর হয়ে একটি মামলায় সওয়াল করেছিলেন তিনি। সম্প্রতি ২৬ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বাতিলের মামলাতেও দলের ছাত্র-যুব সংগঠনের সঙ্গে তাঁর মত ছিল ভিন্ন মেরুতে।
সেই পর্বে সিপিএমের বক্তব্য ছিল, পুরো প্যানেল বাতিল না-করে চাল আর কাঁকর আলাদা করতে হবে। বিকাশবাবুর বক্তব্য ছিল, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি হলে তা সম্ভব হয় না। শেষ পর্যন্ত পুরো প্যানেল বাতিলেরই নির্দেশ দিয়েছিল আদালত।


Recent Comments