রাজ্যের মহিলাদের স্বনির্ভর করতে এবং আর্থিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফ থেকে সম্প্রতি চালু করা হয়েছে বহু প্রতীক্ষিত ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ (Annapurna Yojana) বা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার। গত বুধবারই এই প্রকল্পের আবেদনপত্র বা ফর্ম জনসমক্ষে আনা হয়েছিল এবং একই সাথে নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের ঠিকানাও প্রকাশ করা হয়েছিল। এবার এই প্রকল্পের ফর্ম অফলাইনে (Offline) কীভাবে মিলবে এবং আবেদনের ক্ষেত্রে কেন এত পারিবারিক তথ্য চাওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে বড় আপডেট দিলেন রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)।
এই প্রকল্পটিকে ঘিরে সাধারণ মহিলাদের মধ্যে উদ্দীপনা তুঙ্গে। তবে অনলাইনে ফর্ম তুলতে গিয়ে অনেকেই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিলেন। সেই সমস্ত সাধারণ মানুষের সুবিধার্থেই এবার অফলাইন ব্যবস্থার রূপরেখা স্পষ্ট করল সংশ্লিষ্ট দফতর।
অফলাইনে কোথায় মিলবে ফর্ম?
মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul) জানিয়েছেন, কেবল অনলাইনেই নয়, রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তের যোগ্য উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছাতে অফলাইন প্রক্রিয়াকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষ তাঁদের নিকটবর্তী সরকারি দফতরগুলি থেকে সহজেই এই প্রকল্পের ফর্ম সংগ্রহ করতে পারবেন।
- ব্লক স্তরে বিডিও অফিস (BDO Office), জেলা স্তরে ডিএম অফিস (DM Office) থেকে ফর্ম পাওয়া যাবে।
- শহরাঞ্চলে পুরসভা (Municipality) এবং প্রতিটি ওয়ার্ড অফিস (Ward Office) থেকে ফর্ম সংগ্রহ করা যাবে।
- এ ছাড়া, পুরসভার কর্মীরা সশরীরে বাড়ি বাড়ি গিয়েও ফর্ম পৌঁছে দেবেন।
- প্রত্যন্ত এলাকার জন্য খুব শীঘ্রই বিশেষ সরকারি ক্যাম্পের আয়োজন করা হবে।
আবেদনকারীরা ফর্ম সঠিকভাবে পূরণ করে তাঁদের কাছাকাছি থাকা এই সমস্ত সরকারি অফিসেই জমা দিতে পারবেন। মন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ফর্ম তোলার জন্য হুড়োহুড়ি করার কোনো প্রয়োজন নেই। আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যেই সব ফর্ম পূরণ করে জমা দিতে হবে— এমন কোনো সময়সীমা বা বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি।
নিখুঁত পারিবারিক তথ্য চাওয়ার আসল কারণ কী?
ফর্মের মধ্যে বিশদ পারিবারিক তথ্য চাওয়া নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। সেই ধোঁয়াশা কাটclear করে মন্ত্রী জানান, বিগত ১৫ বছরে দেখা গিয়েছে বহু অযোগ্য ব্যক্তি, এমনকি পুরুষরাও ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর মতো প্রকল্পের সুবিধা নিয়েছেন। সাধারণ মানুষের করের টাকায় চলা এই ধরণের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা যাতে প্রকৃত অভাবী ও যোগ্য মহিলারাই পান, তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর স্ক্রিনিং বা যাচাই প্রক্রিয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul) বলেন, “আমরা চাই যার পাওয়া উচিত, তিনি যেন এই প্রকল্পের সুবিধা পান।” তিনি স্পষ্ট জানান, যাঁদের কোনো আয়কর ফাইল (Income Tax File) নেই, তাঁরা নিশ্চিতভাবেই এই টাকা পাবেন। তবে যাঁরা আয়কর রিটার্ন (IT File) দাখিল করেন অথচ কর দিতে হয় না, তাঁরাও আবেদনের যোগ্য। কিন্তু উচ্চবিত্ত বা যাঁরা নিয়মিত বড় অঙ্কের ট্যাক্স দেন, তাঁদের এই সুবিধা পাওয়া উচিত কি না, তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছে সরকার।
ভুয়ো তথ্য দিলে কড়া ব্যবস্থা, অনুপ্রবেশকারীরা পাবেন না সুবিধা
আবেদনকারী মা-বোনেদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রীর বিশেষ অনুরোধ, ফর্মে যেন কোনো রকম ভুল বা অসত্য তথ্য না দেওয়া হয়। তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি বিশেষ দল কাজ করবে। ভুল তথ্য দিলে আবেদনকারী চিহ্নিত হয়ে যাবেন এবং আবেদন বাতিল হতে পারে।
পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে বহু অনুপ্রবেশকারী বা বহিরাগতরা রাজ্যের এই ধরণের ভাতার সুবিধা পেতেন। কিন্তু অন্নপূর্ণা যোজনার ক্ষেত্রে ভারতের নাগরিক হওয়া বাধ্যতামূলক। যাঁরা দেশের নাগরিক নন, তাঁরা কোনোভাবেই এই সুবিধা পাবেন না। তবে যাঁরা সিএএ (CAA)-র জন্য কিংবা ট্রাইব্যুনালে আবেদন করে প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন, তাঁরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য বিবেচিত হবেন। আগামী ৩ জুন নবান্ন (Nabanna) থেকে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বা ডিবিটি (DBT) মাধ্যমে টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে।
১ সেপ্টেম্বর থেকে আসছে ‘স্বচ্ছ অ্যাপ’, নোংরা ফেললেই জরিমানা
প্রকল্পের আলোচনার পাশাপাশি এক অভিনব পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছেন মন্ত্রী। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্য জুড়ে চালু হতে চলেছে “স্বচ্ছ অ্যাপ” (Swachh App)। রাস্তাঘাটে যত্রতত্র নোংরা-আবর্জনা, চিপসের প্যাকেট, প্লাস্টিক বা থুতু ফেললে, এমনকি প্রকাশ্য স্থানে মূত্রত্যাগ করলে পুলিশ সরাসরি জরিমানা বা ফাইন করবে। প্রথম দফায় ১০টি পুরসভাকে নিয়ে এই পাইলট প্রজেক্ট (Pilot Project) শুরু হচ্ছে। আগামী তিন মাস মানুষকে সচেতন করার সময় দেওয়া হবে এবং সারা রাজ্যে প্রতি ১০০ মিটার দূরত্বে ডাস্টবিন বসানো হবে। তিন মাস পার হলেই আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও আর্থিক পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হবে।


Recent Comments