রেজিনগর উপনির্বাচনকে ঘিরে মঙ্গলবার সকাল থেকেই উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়। ভোটগ্রহণের মধ্যেই পুলিশের সঙ্গে বাগযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার পর আটক করা হল আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীরকে। কার্যালয় থেকে বেরনোর সময় পুলিশের সঙ্গে তাঁর প্রথমে কথা কাটাকাটি হয়। পরে পরিস্থিতি ধস্তাধস্তিতে গড়ায়। এরপর পুলিশ তাঁকে আটক করে রেজিনগর থানায় নিয়ে যায়।
এর আগে ভোটের দিন সকালে নিজের বুথে ভোট দিতে গিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন হুমায়ুন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি অভিযোগ করেন, রেজিনগরের বিভিন্ন বুথে ভোট লুঠ হচ্ছে এবং পুলিশের একাংশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, বুথের ভিতরে পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী নেই এবং সাধারণ মানুষের ভোটাধিকারও সুরক্ষিত নয়।
হুমায়ুনের আরও অভিযোগ, তাঁর দলের বহু কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষক এবং সেক্টর অফিসারদের ফোন বন্ধ থাকার অভিযোগও করেন তিনি। একইসঙ্গে পুলিশ তাঁকে আক্রমণ করলে তিনি পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানাবেন বলেও মন্তব্য করেন। এরপরই তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশের সঙ্গে উত্তেজনা তৈরি হয়।
রেজিনগরে উপনির্বাচনের জন্য কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এলাকায় চলছে নাকা তল্লাশি। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রে ৩৪ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং ৮১৯ জন পুলিশকর্মী মোতায়েন রয়েছেন। মোট ৩১৫টি বুথে ভোটগ্রহণ চলছে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নওদা ও রেজিনগর—দুই কেন্দ্র থেকেই জয় পেয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। পরে নওদা বিধায়ক পদ রেখে রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেন তিনি। সেই কারণেই রেজিনগরে এই উপনির্বাচন হচ্ছে। এবার তাঁর ছেলে গোলাম নবি আজাদ আম জনতা উন্নয়ন পার্টির হয়ে প্রার্থী হয়েছেন। তৃণমূলের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী এবং বিজেপির প্রার্থী শাখারভ সরকার-সহ অন্যান্য দলের প্রার্থীরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।


Recent Comments