পুনর্নির্বাচনের মাত্র দু’দিন আগে বড়সড় চমক ফলতায়। শেষমেশ রণে ভঙ্গ দিলেন ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের চর্চিত তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। মঙ্গলবার তিনি হঠাৎই ঘোষণা করেন যে, আগামী ২১ মে ফলতার মেগা পুনর্নির্বাচনে তিনি আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না। এর পাশাপাশি, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষিত ‘স্পেশ্যাল প্যাকেজ’-কেও স্বাগত জানিয়েছেন তিনি। এর ফলে এক সময়ের দোর্দণ্ডপ্রতাপ এবং নিজেকে সিনেমার অ্যান্টি-হিরো ‘পুষ্পা’-র সঙ্গে তুলনা করা জাহাঙ্গির শেষমেশ ‘ঝুঁকলেন’ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
নির্বাচনের সময় উত্তরপ্রদেশের আইপিএস এবং নির্বাচন কমিশনের পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মার সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়েছিলেন জাহাঙ্গির। কড়া মেজাজের পুলিশকর্তা অজয়পালকে ‘সিংহম’ আখ্যা দিয়ে জাহাঙ্গির দম্ভভরে বলেছিলেন, “উনি সিংহম হলে আমিও পুষ্পা… ঝুঁকেগা নহি!” কিন্তু নির্বাচন কমিশনের কড়া অবস্থান এবং রাজ্যে পালাবদলের পর সেই সুর অনেকটাই নরম। নিজেকে ফলতার ‘ভূমিপুত্র’ দাবি করা জাহাঙ্গির ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর প্যাকেজকে স্বাগত
গত শনিবার ফলতায় একটি সভা থেকে ওই এলাকার উন্নয়নের জন্য একটি ‘স্পেশ্যাল ডেভেলপমেন্ট প্যাকেজ’ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে তিনি ভোট-পরবর্তী হিংসার প্রসঙ্গ টেনে জাহাঙ্গিরকে ‘কুখ্যাত অপরাধী’ আখ্যা দিয়ে কড়া ব্যবস্থার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন। আশ্চর্যের বিষয় হল, নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর সেই উন্নয়ন প্যাকেজকে খোলা মনে স্বাগত জানিয়েছেন খোদ জাহাঙ্গির খান।
হাই কোর্টের রক্ষাকবচ
ভোটের আগে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হতে পারেন, এই আশঙ্কা প্রকাশ করে সম্প্রতি কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-ঘনিষ্ঠ এই তৃণমূল নেতা। তাঁর বিরুদ্ধে ভোটারদের ভয় দেখানো থেকে শুরু করে কারচুপির একাধিক এফআইআর দায়ের হয়েছিল। সোমবার কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি সুগত ভট্টাচার্য তাঁকে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দেন।
আদালত জানায় আগামী ২৪ মে পর্যন্ত জাহাঙ্গিরের রক্ষাকবচ বহাল থাকবে। নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার বা কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না। তবে তদন্তে তাঁকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। আইনি রক্ষাকবচ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর এই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক জল্পনা তৈরি করেছে।
ফলতায় নজিরবিহীন পুনর্নির্বাচন
গত ২৯ এপ্রিল ফলতায় মূল ভোটগ্রহণ হয়েছিল। কিন্তু ব্যাপক কারচুপি, বুথ দখল এবং হিংসার অভিযোগ ওঠায় নির্বাচন কমিশন কড়া পদক্ষেপ করে।
বিরোধীরা মাত্র ৩২টি বুথে অনিয়মের অভিযোগ জানালেও, কমিশন পুরো ফলতা বিধানসভার ২৮৫টি বুথেই ভোট বাতিল করে দেয়।
আগামী ২১ মে কড়া নিরাপত্তায় সেখানে নতুন করে পুনর্নির্বাচন (Fresh Poll) হওয়ার কথা এবং ২৪ মে গণনা।
একসময় যিনি হুঙ্কার দিয়ে বলেছিলেন, “ঝড় এলে মাথাটা একটু নিচু করতে হয়, ঝড়ে আমরা একটু মাথা নিচু করেছিলাম,” পুনর্নির্বাচনের ঠিক আগে তাঁর এই নির্বাচন থেকে পুরোপুরি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তকে ‘পুষ্পা’র পিছু হটা এবং বিরোধীরা নিজেদের নৈতিক জয় হিসেবেই দেখছেন।


Recent Comments