নিজস্ব সংবাদদাতা : মালদহের মোথাবাড়ি কাণ্ডে তদন্তে আরও জোর বাড়াল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। সোমবার গভীর রাতে কালিয়াচক ও মোথাবাড়ির একাধিক এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে তদন্তকারী সংস্থা। এই নিয়ে মামলায় মোট গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৬৫-এ।
সূত্রের খবর, দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা এই অভিযানে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনদের বাড়ি ও বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত এপ্রিলে ভোটার তালিকার বিশেষ পুনর্বিবেচনা (এসআইআর) সংক্রান্ত কাজ করতে গিয়ে মালদহের কালিয়াচক-২ ব্লক অফিসে চরম উত্তেজনার মুখে পড়েন কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি নিযুক্ত সাতজন বিচারবিভাগীয় আধিকারিক। অভিযোগ, তাঁদের ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখানো হয় এবং গভীর রাত পর্যন্ত অফিসের ভিতরে আটকে রাখা হয়। বিচারকদের হেনস্থা করার অভিযোগও ওঠে। এসআইআর-এর তালিকা থেকে কিছু নাম বাদ পড়ায় ক্ষুব্ধ একাংশ মানুষের এই বিক্ষোভের সূত্রপাত বলে অভিযোগ।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। পরে শীর্ষ আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্তভার এনআইএ-র হাতে তুলে দেয় নির্বাচন কমিশন। তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে এ মাসের শুরুতে সুপ্রিম কোর্টে স্টেটাস রিপোর্ট জমা দেয় এনআইএ। পাশাপাশি আদালত দ্রুত তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দিয়ে সংস্থাকে দুই মাসের সময়সীমাও বেঁধে দেয়। বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ জানিয়েছে, যাঁরা এখনও হুমকির মুখে থাকতে পারেন, তাঁদের নিরাপত্তা আপাতত বহাল থাকবে।
তদন্তের শুরুতেই রাজ্য পুলিশের সিআইডি অন্যতম অভিযুক্ত মোফাক্কেরুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছিল। আদালতে তাঁকে বিক্ষোভ কর্মসূচির অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে দাবি করা হয়। এরপর ধাপে ধাপে একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে এনআইএ। সর্বশেষ এই ১৫ জনের গ্রেফতারের মাধ্যমে তদন্তে নতুন গতি এল বলে মনে করছে তদন্তকারী মহল।
মোথাবাড়ি কাণ্ডে কারা কারা জড়িত এবং এর পেছনে কোনও বৃহত্তর ষড়যন্ত্র ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে এনআইএ। তদন্তের অগ্রগতির দিকে এখন নজর রয়েছে প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলের।

Recent Comments