প্রতি বছর আজকের দিনে, মানে ৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ক্যান্সার দিবস বা বিশ্ব ক্যান্সার সচেতনা দিবস পালন করা হয়। এই দিন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ক্যান্সার প্রতিরোধ এবং ক্যান্সার রোগীদের জীবনধারার মান উন্নয়নে ‘ইন্টারন্যাশানাল ইউনিয়ন এগেনষ্ট ক্যান্সার’কে সহায়তা করে থাকে।
২০০০ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি প্যারিসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ক্যান্সার শীর্ষ সম্মেলনে বিশ্ব ক্যান্সার দিবস শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। শ্লোগান ছিল ’নতুন সহস্রাব্দের জন্য ক্যান্সারের বিরুদ্ধে’। প্রতি বছর এই দিন চলে নানা প্রচারাভিযান। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, তা সত্ত্বেও বিভিন্ন দেশে ক্যান্সারের ঘটনা ক্রমাগত বাড়ছে।
ভারতে প্রাথমিক সনাক্তকরণ, ঝুঁকি হ্রাস এবং ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ক্যান্সার প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিকল্পনার কথা বার বার বলা হলেও খুব একটা কার্যকরী সুফল পাওয়া গিয়েছে কিনা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে বিভিন্ন মহলে।

ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী ২০২২ সালে ভারতে ক্যান্সারের আনুমানিক ঘটনা সংখ্যা ছিল ১৪,৬১,৪২৭ (আনুমানিক হার: প্রতি ১০০,০০০ জনে ১০০.৪)। ‘ন্যাশনাল ক্যান্সার রেজিস্ট্রি প্রোগ্রাম’ অনুযায়ী, ভারতে প্রতি নয় জনের মধ্যে একজনের জীবদ্দশায় ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ওই তথ্যে প্রকাশ, পুরুষ এবং মহিলাদের মধ্যে ক্যান্সারের প্রধান স্থান ছিল যথাক্রমে ফুসফুস এবং স্তন ক্যান্সার। শৈশবের (০-১৪ বছর) ক্যান্সারের মধ্যে লিম্ফয়েড লিউকেমিয়া (ছেলেরা: ২৯.২% এবং মেয়েরা: ২৪.২%) ছিল শীর্ষস্থানীয় স্থানে। ২০২০ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে ক্যান্সারের ঘটনা ১২.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে ওই সমীক্ষায় অনুমান করা হয়। সমীক্ষার ভবিষ্যদ্বানীর সঙ্গে বাস্তবের মিল কতটা হল, সেই তথ্য অবশ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতিবছর ৮২ লাখ মানুষ ক্যান্সারে মৃত্যুবরণ করে। বিশেষ করে সাড়ে ১০ কোটি মহিলা ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। তবে তামাক ব্যবহার পরিহারের মাধ্যমে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ক্যানসারে মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব।
‘হু’-র মতে, ভারতের মতো দেশে প্রতি দিন ক্যানসার আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ও আধুনিক জীবনযাত্রার নানা ক্ষতিকারক দিকও এমন মারণ অসুখের দিকে ঠেলে দেয় আমাদের। বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনযাপনে নিয়ন্ত্রণ আনা ও ক্ষতিকারক অভ্যাসগুলি থেকে সরে থাকা যেমন প্রয়োজন, তেমনই প্রতি দিনের ডায়েটে যোগ করা উচিত এমন কিছু খাবার, যা শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ক্যানসার প্রতিরোধেও বিশেষ ভূমিকা নেয়।
চিকিৎসক সৌরভ শেঠী তাঁর সমাজমাধ্যমের পাতায় এমন তিন খাবারের হদিশ দিয়েছেন,
যেগুলো ক্যানসার ঠেকিয়ে রাখতে সাহায্য করতে পারে। তাঁর মতে, ‘‘ব্রকোলি, বাঁধাকপি আর ফুলকপি ক্যানসার ঠেকাতে পারে। এই সব্জিগুলিতে সালফোরাফেন নামক প্রাকৃতিক যৌগ থাকে যাতে ক্যানসার-রোধী গুণাগুণ রয়েছে। এই যৌগ বিশেষ করে স্তন ও কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিনের ডায়েটে এই তিন সব্জি রাখা যেতেই পারে।’’
২০২২ সালে গ্লোবাল ক্যান্সার অবজারভেটরি (GCO) জানিয়েছিল, বিশ্বব্যাপী মোট ক্যান্সার আক্রান্তের সংখ্যা আনুমানিক ২০.০ মিলিয়ন থেকে বেড়ে ২০৪৫ সালের মধ্যে ৩২.৬ মিলিয়ন হবে। এর মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে মোট ২৪ লক্ষ নতুন ক্যান্সার আক্রান্ত এবং ১.৫ মিলিয়ন ক্যান্সারে মৃত্যু হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই অঞ্চলে ক্যান্সারের প্রকোপ এবং মৃত্যুহার ২০৪৫ সালের মধ্যে ৪০ লক্ষ নতুন ক্যান্সার আক্রান্ত এবং মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২.৭ মিলিয়ন হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
