
ছবি : নিজস্ব
লেখা : সৃষ্টি ব্যানার্জী
একবার ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মহাশয়ের সাথে এক কুমোরের বেঁধেছে বিশাল বচসা। কুমোর প্রতি বারেই মাটি লেপে দেবী সরস্বতীর অপরুপ হাসিমাখা প্রতিমা তৈরি করেন অথচ কোনোবারই বিদ্যাসাগর মহাশয়কে খুশি করতে পারেন না। বিরক্ত হয়ে শেষে যখন কুমোরের কাজ ছাড়ার উপক্রম তখন তিনি বললেন বাগদেবীর মুখশ্রী হতে হবে গম্ভীর , মৃদুহাস্য কারণ তিনি বিদ্যার দেবী। তবে এতো গেল অতীতের গল্প , যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বদলেছে মানুষের পছন্দ-রুচি। এখন আর পড়াশোনা মানে গম্ভীর সাদা কালো বইয়ের পাতা কিংবা বেত হাতে রাগী মাস্টারমশাই নয়। দিন এখন খেলার ছলে বন্ধুর মতো পড়া বোঝানোর।আর এই প্রবণতার সাথে পাল্লা দিয়ে ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে দেবীমূর্তির আদল। সাবেকী সাঁজের প্রতিমার পাশাপাশি বেড়েছে থিমের মূর্তির চাহিদা।
বিগত কয়েক বছর ধরেই সোশ্যাল মিডিয়ার পৃষ্ঠা জুড়ে ভাইরাল হয়েছে কলকাতার বেশ কিছু বড়ো বড়ো প্যান্ডেলের মিষ্টি মুখের বৃহৎ আকারের সরস্বতী। হংসবাহনের ওপর অধিষ্ঠাত্রী দেবীর মুখের আদল ঠিক যেন গালফোলা বাচ্চা মেয়েটি। চোরবাগান সর্বজনীনের পর কলকাতার একাধিক প্যান্ডেল , স্কুল কলেজেও দেখা মিলেছে এই “কিউট” মুখের সরস্বতীর।
বছরের প্রথম বড়ো পূজোকে ঘিরে কলকাতার কুমোরপাড়ার ব্যস্ততা তুঙ্গে। স্কুল কলেজে কিংবা পাড়ার বিরাট বিরাট প্রতিমা থেকে শুরু করে গৃহস্থের ছোট ছোট মূর্তি। বায়না করা খদ্দের থেকে শুরু করে চলতি ক্রেতাদের নানান রকম চাহিদা পূরণ করে চলেছে কুমারটুলির মৃৎশিল্পীরা। এবছরে কুমারটুলির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এই “কিউট” মুখের ভাইরাল প্রতিমা।
কুমারটুলির তারাপদ শিল্পালয়ের নিমাই চন্দ্র পাল জানিয়েছেন এবছর প্রায় ২৫-৩০টি এই “কিউট” মুখের সরস্বতীর অর্ডার এসেছে, তারপর তো রয়েইছে চলতি খদ্দেরের আনাগোনা। পাড়ার প্যান্ডেলের থিম পূজার বদলে নিমাইবাবু এই প্রতিমা তৈরি করেছেন বাড়ির সিংহাসনের সাথে মানানসই আকারের।এই সংখ্যা আগামী বছরে আরো বাড়বে বলে অনুমান।
তবে প্রতিমার মূর্তির ধরণ যতই বদলাক, পূজো ঘিরে ভক্তি আর আনন্দের আমেজ আজও অমলিন।
দিনশেষে মূর্তিপূজা তো শিল্পীর সমস্ত সৌন্দর্যকে উজাড় করে নির্মিত শিল্পের পুজো।তাই এবছরও খুদেদের হাতেখড়ি থেকে শুরু করে কিশোরকালের প্রেম বিনিময় সবটুকু আয়োজন ঘিরে দেবীর আগমনে মেতে উঠছে বাঙালি।

