সম্প্রতি শেষ হওয়া ৪৯তম কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলার ভিড়ে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ থমকে দাঁড়িয়েন অনেকেই। কোথাও উপন্যাসের রোমান্টিক আহ্বান, থ্রিলারের রুদ্ধশ্বাস টান, কবিতার নরম আলো—সব মিলিয়ে মেলা যেন কাগজে মোড়া এক শহর। রঙিন প্রচ্ছদ, ঝলমলে ব্যানার, সেলফির ভিড়—সবকিছুর মাঝেই কিছু বই নীরবে তার অস্তিত্ব জানান দেয়। ঠিক সেরকমই এক সত্যে মোড়া বইয়ের উদাহরণ সায়ন্তিকা বেথুনিয়াম মজুমদারের ‘বিচার’।
বিচার’ গড়ে উঠেছে দু’টি বাস্তব ঘটনার উপর। একটি আনন্দপুরের ধর্ষণ মামলা—আর জি করের ঘটনার ঠিক পরপরই ঘটে যাওয়া সেই অপরাধ সংবাদমাধ্যমে টিকে ছিল ক্ষণিকের জন্য। সোশ্যাল মিডিয়াযর পৃষ্ঠায় ভেসে উঠেছিল মাত্র ৩০ সেকেন্ড থেকে এক মিনিটের একটি ভিডিও, তারপর খবরের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া আরেকটি নারীর আর্তনাদ।
বিচারের দ্বিতীয় গল্পটি তরুণদের মদ্যপ মুহূর্তের বেপরোয়া সিদ্ধান্ত থেকে জন্ম নেওয়া এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডি—যেখানে এক রাতের উচ্ছ্বাস আজীবনের শূন্যতায় রূপ নেয়।
এই বইয়ের জন্ম কেবল লেখকের টেবিলে বসে নয়—এর আগে এই কাহিনিগুলির ভয়েস-ওভার করে তিনি যে প্রতিক্রিয়া পেয়েছিলেন, তা-ই তাঁকে বইয়ের পথে ঠেলে দেয়। আজ যখন দেশজুড়ে, কলকাতায় বারবার নারীর উপর সহিংসতার খবর ভেসে আসে, তখন ‘বিচার’ কেবল একটি বই নয়—এ এক স্মরণ করিয়ে দেওয়া: খবরের আয়ু ছোট হতে পারে, কিন্তু ন্যায়ের দাবি ক্ষণস্থায়ী নয়।
বইমেলার কোলাহলের মধ্যে ‘বিচার’ যেন এক নিঃশব্দ প্রতিবাদ। এই বই কাঁদায় না, চমক দেয় না—শুধু আয়নার মতো সামনে ধরে রাখে আমাদেরই সমাজকে। মেলার স্টলের এক কোণে দাঁড়িয়ে থাকা এই বইটি মনে করিয়ে দেয়, “ন্যায়বিচার” শুধু আইন আদালত চত্বরে আউড়ে চলা শব্দ নয়, বরং এটিকে স্মৃতিতে বাঁচিয়ে রাখাই সবচেয়ে বড় লড়াই।
তবে এই সাহসিকতায় মোড়া বইয়ের পথচলার ইতি কেবল বইমেলাতেই নয়। কলেজস্ট্রিটের অনুরাগ প্রকাশনী থেকে সারাবছর পাঠকরা এই বইটি সংগ্রহ করতে পারেন বলে জানিয়েছেন লেখিকা।
খবরের আয়ু ৩০ সেকেন্ড, যন্ত্রণার নয়: বইমেলায় ‘বিচার’-এর নীরব প্রতিবাদ
RELATED ARTICLES

