তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত বিবর্তনে বদলে যাচ্ছে পৃথিবী। স্মার্টফোন আর ইন্টারনেটের দাপটে অনেক পুরোনো মাধ্যমই আজ অস্তিত্বের সংকটে। কিন্তু তার মাঝেও স্বমহিমায় টিকে আছে রেডিও (Radio)। আজ ১৩ ফেব্রুয়ারি (February 13), বিশ্ব বেতার দিবস (World Radio Day)। প্রতি বছরের মতো এবারও সারা বিশ্বে যথাযথ মর্যাদায় দিনটি পালিত হচ্ছে।
১৯৪৬ সালের এই দিনেই প্রথম রাষ্ট্রপুঞ্জ বেতার (United Nations Radio) সম্প্রচার শুরু হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্মরণ করেই ২০১১ সালে ইউনেস্কো (UNESCO) এই দিনটিকে বিশ্ব বেতার দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।
বিশ্ব বেতার দিবস ২০২৬-এর থিম বা মূল ভাবনা হলো— “রেডিও এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা” (Radio and Artificial Intelligence)। এ বছরের প্রধান স্লোগান হলো: “AI ইজ আ টুল, নট আ ভয়েস” (AI is a tool, not a voice)। অর্থাৎ, রেডিওর দুনিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কেবল একটি সহায়ক যন্ত্র হিসেবে কাজ করবে, কিন্তু মানুষের কন্ঠস্বর বা আবেগ কখনো প্রতিস্থাপন করতে পারবে না।বেতারের বিবর্তন ও প্রযুক্তির ব্যবহার:২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে রেডিও আর কেবল ট্রানজিস্টর বাক্সের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ডিজিটাল যুগে রেডিওর গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
এ বছরের থিম অনুযায়ী মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে:
১. নৈতিক ব্যবহার (Ethical Use): সাংবাদিকতায় AI ব্যবহার করা হলেও সম্পাদকীয় সিদ্ধান্ত এবং তথ্য যাচাইয়ের (Fact-checking) মূল দায়িত্ব থাকবে মানুষের হাতেই। এতে সংবাদের বিশ্বাসযোগ্যতা অটুট থাকবে।
২. উদ্ভাবন (Innovation): কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে অডিওর গুণমান বাড়ানো, স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুবাদ করা এবং বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য ব্রডকাস্টিং সহজ করার কাজ চলছে।
৩. আস্থা ও বিশ্বাস (Building Trust): দ্রুত তথ্য যাচাই করে শ্রোতাদের কাছে সঠিক খবর পৌঁছে দিতে AI বড় ভূমিকা পালন করছে, যা রেডিওর প্রতি মানুষের ভরসা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
কেন আজও প্রাসঙ্গিক রেডিও?
ভারত (India) বা বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal)-এর মতো জনবহুল জায়গায় আজও রেডিওর আবেদন ফুরিয়ে যায়নি। দুর্যোগের সময় যখন মোবাইল নেটওয়ার্ক বা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তখন বেতারই হয়ে ওঠে তথ্যের একমাত্র উৎস। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা বা প্রত্যন্ত গ্রাম, যেখানে ইন্টারনেট পরিষেবা আজও পৌঁছায়নি, সেখানে রেডিও মানুষের পরম বন্ধু।স্পেন (Spain)-এর রেডিও অ্যাকাডেমি ২০১০ সালে প্রথম এই দিনটির প্রস্তাব দিয়েছিল।
আজ সেই উদ্যোগ এক বিশাল মহীরুহে পরিণত হয়েছে। বিশ্ব বেতার দিবস ২০২৬ মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, রেডিও কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি গণতান্ত্রিক সংলাপ এবং বাকস্বাধীনতার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। তাই তো প্রযুক্তির জোয়ার এলেও, মানুষের আবেগের সাথে জুড়ে থাকা রেডিওর ‘ভয়েস’ বা কন্ঠস্বর আজও অমলিন।

