“…তাদের পাড়ায় পাড়ায়
মন্দিরে বাজছিল পূজার ঘণ্টা
সকালে সন্ধ্যায় দয়াময় দেবতার নামে;”।
১৩৪৩-এর মাঘ মাসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আফ্রিকা’-তে লিখেছিলেন এ কথা। প্রায় নয় দশক বাদে এখন বাংলার মন্দিরগুলো বুঝি ভোটের সৌজন্যে এরকমই ব্যস্ততা।
নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ-সহ ভিনরাজ্যের বিজেপি নেতারা এলেই তাঁদের সভাস্থল-সংলগ্ন বা এলাকার বড় মন্দিরে সাজ সাজ রব পড়ে যায়। এবারেও ওই দুই নেতার প্রচারসূচীতে আছে একগুচ্ছ এলাকা। সূত্রের খবর, ওই সব অঞ্চলের কিছু মন্দিরের তরফে খোঁজখবর শুরু হয়েছে নেতৃবৃন্দ তাঁদের মন্দিরে আসছেন কিনা। তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্মস্থানপ্রীতির কথা তো সবারই জানা।
প্রতিদিনই বিভিন্ন অঞ্চলে পুজো দিতে আসছেন বিভিন্ন দলের প্রার্থী। শুক্রবার চৈতন্য মঠে পুজো দিয়ে ভোটের প্রচার শুরু করলেন হিঙ্গলগঞ্জের বিজেপি প্রার্থী রেখা পাত্র। হলদিয়ার বিজেপি প্রার্থী প্রদীপ বিজলি গিয়েছিলেন খোড়াবেড়িয়ার মনসা মন্দিরে। সন্ধ্যায় যাচ্ছেন বেচারহাটে (১৩ নম্বর ওয়ার্ড) শীতলা মন্দিরে।
এদিন ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্র এলাকার নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিং এবং বীজপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সুদীপ্ত দাস একসঙ্গে হালিশহর রামপ্রসাদ ভিটে কালী মন্দিরে পূজো দিয়ে নিজেদের প্রচার অভিযান শুরু করলেন। বারাকপুরের বিজেপি প্রার্থী কৌস্তভ বাগচি গেলেন অন্নপূর্ণা মন্দিরে।
টালিগঞ্জ কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী পাপিয়া অধিকারীর মন্দিরসফর শুরু হয়েছিল সকাল সাড়ে ৮টায়। ত্রিপুরাসুন্দরী মন্দির দিয়ে শুরু করে একে একে গোষ্ঠতলা, বসন্তকালী মন্দির, শ্রীগুরুমন্দির, কালীমন্দির, বড়ুয়াপাড়ায় হনুমানমন্দির, রামঠাকুর আশ্রম।
রাজারহাট-গোপালপুরের বিজেপি প্রার্থী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি গেলেন কৃষ্ণপুরের ঘোষপাড়া কালীমন্দিরে।
প্রার্থী পদ ঘোষণার পরে এর আগে বৃহস্পতিবার মা কালীর মন্দিরে পূজা দিয়ে প্রচার শুরু করেন জগৎবল্লভপুর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী অনুপম ঘোষ। রাজারহাট-নিউটন বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নাম ঘোষণা হওয়ার পর মন্দিরে পুজো দিয়ে প্রচারে নামেন বিজেপি প্রার্থী পীযূষ কানোরিয়া। শিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রে রামতলার রাম মন্দিরে এবং শংকর মঠে পুজো দিয়ে প্রচারে নামেন প্রার্থী রুদ্রনীল ঘোষ। উত্তর কাঁথি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সুমিতা সিনহা নাচিন্দা মন্দিরে পুজো দিয়ে প্রচার শুরু করেন।
বুধবার গলসি কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী, গতবারের বিধায়ক অলোক কুমার মাঝির নাম ঘোষণা হয়। পরদিনই তিনি যান দানবাবা মসজিদে চাদর চাপিয়ে প্রচার শুরু করতে।
১৮ই বাণেশ্বর মন্দিরে পুজো দিয়ে প্রচার শুরু করেন কোচবিহার উত্তর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সুকুমার রায়। এর পর স্ত্রীকে নিয়ে কোচবিহার মদনমোহন মন্দিরেও পুজো দেন তিনি। গতবারও বাণেশ্বর মন্দিরে পুজো দিয়ে প্রচার শুরু করেন সুকুমার রায়। প্রার্থীতালিকা ঘোষণার পরদিনই মা কনকদুর্গার আশীর্বাদ নিয়ে রবিবার প্রচার শুরু করেন বিজেপি প্রার্থী লক্ষীকান্ত সাউ। ঢোল, ধামসা নিয়ে ঝাড়গ্রামে জোরদার প্রচারে নামেন তিনি।
রবিবার পূর্ণ দাস রোডের ডাকাত কালীবাড়িতে পুজো দিয়ে প্রচার শুরু করেন রাসবিারি কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী ডঃ স্বপন দাশগুপ্ত। সব মিলিয়ে ভোট এলে নতুন করে প্রাণসঞ্চার হয় মন্দিরগুলোয়। এবারেও তার ব্যতিক্রম হচ্ছেনা।


Recent Comments