কলকাতার শীতের সন্ধ্যা মানেই আলো-আবেশ, সংস্কৃতির উষ্ণতা আর সুরের নরম ছোঁয়া। ঠিক তেমনই এক সন্ধ্যায়, রবিবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামের মঞ্চে ফের ফিরছে বিশ্বসঙ্গীতের এক অনন্য নাম অনুষ্কা শঙ্কর। প্রায় এক যুগ পরে শহরের দর্শকেরা ফের সাক্ষী হতে চলেছেন তাঁর সেতারের জাদুতে।
২০১৪ সালে শেষবার ডোভার লেনের আসরে যাঁর সুরে মেতেছিল কলকাতা, রবিবাসরীয় সন্ধ্যায় ফের সেই সুরের আহ্বান।কিংবদন্তি সেতারসম্রাট পণ্ডিত রবি শঙ্করের কন্যা অনুষ্কা শঙ্কর কেবল উত্তরাধিকার বহনকারী নন, তিনি নিজেই এক স্বতন্ত্র সঙ্গীতভাষার নির্মাতা। ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের শিকড়ে দাঁড়িয়েও তাঁর সৃষ্টিতে রয়েছে জ্যাজ, ফ্ল্যামেঙ্কো ও বিশ্বসঙ্গীতের ছোঁয়া। তিন দশকের দীর্ঘ সঙ্গীতজীবনে অনুষ্কা নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতীয় সেতারের এক আধুনিক মুখ হিসেবে।
এই ‘ইন্ডিয়া টুর’ আসলে তাঁর সেই তিন দশকের সঙ্গীতযাপনের উদযাপন। ৩০ জানুয়ারি হায়দ্রাবাদ থেকে শুরু হওয়া সফর ইতিমধ্যেই বেঙ্গালুরু, মুম্বই, পুণে ও দিল্লি ছুঁয়ে এসেছে। রবিবার সেই যাত্রাপথে যোগ হচ্ছে আমাদের তিলোত্তমা।নেতাজি ইন্ডোরের মঞ্চে অনুষ্কার সঙ্গে থাকবেন তন্ময় বোস, বিক্রম ঘোষের মতো নামী শিল্পীরা।
তবে শহরের সঙ্গীতপ্রেমীদের কৌতূহলের কেন্দ্রে রয়েছেন অন্য এক তারকা—অরিজিৎ সিং। সদ্য প্লেব্যাক গান থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়ে যাঁর কণ্ঠের অনুপস্থিতিতে বিষণ্ণ হয়ে উঠেছে বলিউডের শ্রোতাজগৎ, সেই অরিজিৎই রবিবার কলকাতার মঞ্চে ফিরতে পারেন লাইভ পারফরম্যান্সে এমনই গুঞ্জন। নিজেই জানিয়েছিলেন, গান থামাচ্ছেন না তিনি; কেবল প্লেব্যাকের বাইরে অন্য পথে হাঁটছেন। অনুষ্কার মতো আন্তর্জাতিক মানের শিল্পীর সঙ্গে একই মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি হলে তা নিঃসন্দেহে সঙ্গীতপ্রেমীদের কাছে এক বিরল প্রাপ্তি হবে।এর আগেও অরিজিতের সঙ্গে অনুষ্কার যৌথ পরিবেশনা হয়েছে। এর আগেও অরিজিৎ সিংয়ের অনুষ্ঠানে ২০-২৫ মিনিটের একটি স্লটে সেতার হাতে মঞ্চে উঠেছিলেন অনুষ্কা। এবার যদি উলটো ছবি দেখা যায় অনুষ্কার অনুষ্ঠানের মধ্যমণি হয়ে ওঠেন অরিজিৎ তবে রবিবারের সন্ধ্যা হয়ে উঠবে স্মরণীয়।১৪ বার গ্র্যামি মনোনয়ন পাওয়া অনুষ্কা এখনও পর্যন্ত বিজয়ী হতে না পারলেও ইতিহাসে নিজের নাম লিখিয়েছেন অন্য একভাবে। প্রথম ভারতীয় হিসেবে গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসের মঞ্চে লাইভ পরিবেশন করেছেন তিনি, একই সঙ্গে ছিলেন উপস্থাপক হিসেবেও।
রবিবার কলকাতার মঞ্চে সেই আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতারই ছোঁয়া পড়বে বলে আশাবাদী সঙ্গীতানুরাগীরা।সব মিলিয়ে রবিবারের সন্ধ্যায় নেতাজি ইন্ডোরে অপেক্ষা করছে মনমুগ্ধকর সুরের উৎসব সেতারের ধ্রুপদী ছোঁয়া আর কণ্ঠের আধুনিক আবেশে এক নতুন সঙ্গীতসন্ধ্যার সাক্ষী থাকবে কলকাতাবাসী।

