১৯৭১-র মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশে ‘গণহত্যা’র স্বীকৃতির দাবিতে মার্কিন প্রতিনিধি সভার ১১৯তম কংগ্রেসে সম্প্রতি প্রস্তাব তোলা হয়েছে। পরিষদের সদস্য গ্রেগ ল্যান্ডসম্যানের তোলা এই প্রস্তাবকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছে ধর্মীয় বৈষম্যবিরোধী মানবাধিকার সংগঠন ‘বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ’।
প্রস্তাবে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার যে আহ্বান জানানো হয়েছে, তাকে ‘যথার্থ’ বলেওসংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি মন্তব্য করেছে। প্রস্তাবে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার যে আহ্বান জানানো হয়েছে তাকে ‘যথার্থ’ বলেও বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে।
সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথজানিয়েছেন, “গভীর দুঃখের সাথে বলা হয়, স্বাধীনতা-উত্তর বিগত ৫৪ বছরে বিভিন্ন সরকারের আমলে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের মতো একই কায়দায় নানান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘু হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান এবং আদিবাসী সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু করে ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক মহলবিশেষ মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা ইত্যাদি একনাগারে নির্বিবাদে অব্যাহত রাখায় ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর হার ৭০-এর ১৯.০৭% থেকে বর্তমানে ৯.০২% এ নেমে এসেছে।
অর্থাৎ নিঃস্বকরণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সংখ্যালঘুদের দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে।অথচ এসব অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের কারো শাস্তি এ পর্যন্ত নিশ্চিত করা হয় নি।
এদের ক্ষেত্রে দায়মুক্তির সংস্কৃতি অব্যাহত থাকায় সাম্প্রদায়িক দুর্বৃত্তের দল অধিকতর উৎসাহিত হয়েছে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সরকার কর্তৃক পরিপুুষ্ট হয়েছে এবং তাদের ঘৃণ্য কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সুযোগের সন্ধানে আজো তারা তৎপর।
এমনি এক পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘুদের স্বকীয় অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার প্রত্যয়ে অনতিবিলম্বে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠনসহ ৮ দফা দাবি বেশ কয়েক বছর ধরে নানান সরকারের কাছে উত্থাপন করা হয়েছে এবং এরই বাস্তবায়নে নিয়মতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক পন্থায় ধর্মীয় বৈষম্যবিরোধী মানবাধিকারের আন্দোলনকে শত প্রতিকূলতার মধ্যেও এগিয়ে নিতে ঐক্য পরিষদ সচেষ্ট।”


Recent Comments