সামনেই আসাম বিধানসভা নির্বাচন (Assam Assembly Election 2026)। তার আগেই রাজ্যের নির্বাচনী প্রস্তুতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে গুয়াহাটিতে পা রাখল নির্বাচন কমিশনের (ECI) ফুল বেঞ্চ।
মঙ্গলবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar) এবং দুই নির্বাচন কমিশনার ড. সুখবীর সিং সান্ধু ও ড. বিবেক জোশীর নেতৃত্বে কমিশনের প্রতিনিধিদল রাজ্যের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। আর সেই বৈঠকেই শাসক-বিরোধী নির্বিশেষে প্রায় সব দল একটাই দাবি জানাল—ভোটের দিন যেন বিহু উৎসবের (Bihu Festival) সঙ্গে না মেশে, নির্বাচন যেন এক বা বড়জোর দুই দফায় শেষ করা হয়।
রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি:
এদিন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিল আম আদমি পার্টি (AAP), বিজেপি (BJP), সিপিআইএম (CPIM), কংগ্রেস (INC), এআইইউডিএফ (AIUDF), অগপ (AGP), ইউপিপিএল (UPPL) এবং বিপিএফ (BPF)-এর প্রতিনিধিরা।
বিহু ফ্যাক্টর: আসামের আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিহু। তাই সব দলই কমিশনকে অনুরোধ করেছে, ভোটের নির্ঘণ্ট এমনভাবে তৈরি করা হোক যাতে উৎসবের আনন্দে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে।
দফাওয়ারি ভোট: দীর্ঘ মেয়াদে ভোট না করে এক বা সর্বোচ্চ দুই দফায় ভোটগ্রহণের আর্জি জানিয়েছে অধিকাংশ দল।
ভোটার তালিকা: তবে বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন বা স্পেশাল রিভিশন (Special Revision) নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে রাজনৈতিক দলগুলো।
কমিশনের কড়া নির্দেশ:
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকের পর কমিশন রাজ্যের পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গেও ম্যারাথন বৈঠক করে। আইজি, ডিআইজি, জেলা নির্বাচন আধিকারিক (DEO) এবং পুলিশ সুপারদের (SSP) নিয়ে আয়োজিত এই বৈঠকে ইভিএম ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
নিরপেক্ষতা: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, সংবিধান ও আইন মেনে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে ভোট করাতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর অভিযোগ দ্রুত মেটাতে হবে।
সোশ্যাল মিডিয়া নজরদারি: ফেক নিউজ (Fake News) বা ভুয়ো খবর যাতে ছড়াতে না পারে, সেজন্য সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর কড়া নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
ভোটার-বান্ধব বুথ: ভোটকেন্দ্রগুলোকে উৎসবের মেজাজে সাজিয়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছে কমিশন, যাতে ভোটাররা নির্ভয়ে ও আনন্দের সঙ্গে ভোট দিতে পারেন।
আগামীকাল, অর্থাৎ ১৮ই ফেব্রুয়ারিও কমিশনের এই সফর চলবে। বিহু উৎসবের কথা মাথায় রেখে কমিশন শেষমেশ কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আসামবাসী।
