আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয়েছে দেওয়াল দখল ও প্রচার–লিখন। তবে মেদিনীপুর শহরের গোলাপীচক এলাকায় একটি দেওয়াল লিখন ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। সেখানে লেখা হয়েছে, ‘জন্ম যখন হিন্দু কূলে, ভোট দেবো পদ্মফুলে’—পাশে আঁকা পদ্মফুলের প্রতীক। ধর্মীয় পরিচয়ের উল্লেখ করে ভোটের আহ্বান জানানোয় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ ভোটার—সকলের মধ্যেই প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই বিভিন্ন দল প্রচার প্রস্তুতি জোরদার করেছে। দেওয়াল লিখনের মাধ্যমে নিজেদের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার প্রচলিত রীতি দীর্ঘদিনের। কিন্তু এ বার গোলাপীচকের ওই লেখা ঘিরে সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগ উঠেছে।
মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি ও বিধায়ক সুজয় হাজরা দাবি করেছেন, ধর্মের ভিত্তিতে ভোট চাওয়ার প্রবণতা গণতান্ত্রিক পরিবেশের পক্ষে শুভ নয়। তাঁর বক্তব্য, উন্নয়ন ও কাজের নিরিখে ভোট চাওয়াই হওয়া উচিত রাজনৈতিক দলের লক্ষ্য। তিনি বলেন, বাংলার মানুষ অতীতে বিভাজনের রাজনীতি সমর্থন করেননি।
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সিপিএমের সম্পাদক বিজয় পালও বিষয়টিকে সংবিধানবিরোধী বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, ধর্ম বা জাতপাতের ভিত্তিতে ভোটের আবেদন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। প্রশাসনের উচিত বিষয়টি খতিয়ে দেখা।
অন্যদিকে, বিজেপির তরফে ভিন্ন সুর শোনা গিয়েছে। মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি শঙ্কর গুছাইত বলেন, কে বা কারা ওই লেখা লিখেছে তা নিশ্চিত নয়। তাঁর দাবি, সেখানে অন্য কোনও সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে কিছু বলা হয়নি। তবে একই জেলার এক বিজেপি নেতা মহম্মদ সেলিম ব্যক্তিগতভাবে এমন দেওয়াল লিখন সমর্থন করেন না বলে জানিয়েছেন। তাঁর মতে, ভোট দেওয়া নাগরিকের অধিকার এবং ধর্মের ভিত্তিতে আবেদন করলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ঘটনাটি নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, নির্বাচনী প্রচারে ব্যঙ্গ, ছড়া বা স্লোগান নতুন নয়, তবে ধর্মীয় পরিচয় টেনে আনা উচিত নয়। তাঁদের মতে, এতে সামাজিক সম্প্রীতি ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আবার অন্য অংশের ভোটারদের বক্তব্য, নির্বাচন গণতান্ত্রিক উৎসব—এখানে উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও জনস্বার্থের ইস্যুই হওয়া উচিত মূল আলোচ্য।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও পদক্ষেপের কথা জানা যায়নি। তবে নির্বাচনী আবহে এই দেওয়াল লিখন যে রাজনৈতিক তরজাকে আরও তীব্র করেছে, তা স্পষ্ট। ভোটের আগে এ ধরনের প্রচার ভবিষ্যতে আরও বিতর্ক ডেকে আনে কি না, এখন সেটাই দেখার।
আরও পড়ুনঃ https://bengali.newscope.press/amit-shah-at-mayapur/

