back to top
Sunday, July 12, 2026
Leaderboard Ad Space (728x90) - Responsive
Homeরাজ্য ও রাজনীতিপশ্চিমবঙ্গে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা হ’ল, দাবি রাহুল সিনহার

পশ্চিমবঙ্গে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা হ’ল, দাবি রাহুল সিনহার

পশ্চিমবঙ্গ দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম শাসন এবং ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনে গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক সৌজন্য হারিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান বিজেপি সরকার প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিকেও আমন্ত্রণ জানিয়ে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা করেছে। বুধবার সন্ধ্যায় সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা বলেন ভারতীয় জনতা পার্টির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি ও বর্তমান রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিনহা। তিনি বর্তমান বিজেপি সরকারের প্রশাসনিক পদক্ষেপ, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিবর্তন, অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান এবং তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য রাখেন।

তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক বৈঠক বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের বহু নেতা এখন দল ছাড়তে শুরু করেছেন কারণ “কাটমানির রাজনীতি” এবং “স্বেচ্ছাচারিতা”-র যুগ শেষ হয়ে এসেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিজেপি সরকার স্বচ্ছ প্রশাসন এবং সৎ শাসনের মাধ্যমে বাংলাকে নতুন পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে।

অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গাদের পশ্চিমবঙ্গে ঢুকতে সাহায্য করেছে পূর্ববর্তী শাসকদলগুলি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর নির্দেশে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে দেশছাড়া করার জন্য উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করা হচ্ছে। যারা অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করেছে তাদের দেশের যেখানেই লুকিয়ে থাকুক না কেন, চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আধার কার্ড ও ভোটার পরিচয়পত্র জালিয়াতি নিয়েও তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গে সংগঠিতভাবে নাগরিকত্ব এবং পরিচয়পত্র “বিক্রি” করা হয়েছে। যারা এই জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত—সে রাজনৈতিক নেতা হোক বা প্রশাসনিক ব্যক্তি—কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।

রাহুলবাবু বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এবার ‘ভয়মুক্ত’ পরিবেশে ভোট দিয়েছেন এবং সেই কারণেই বিজেপি বিপুল জনসমর্থন পেয়েছে। ফলতা উপনির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক ভিত্তি ভেঙে পড়েছে এবং বাংলার মানুষ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছেন।

আরো পড়ুন:  দুই জেলাশাসককে বদলির দাবি তুললেন শুভেন্দু অধিকারী

রাহুল সিনহা বলেন, বিজেপির মূল লক্ষ্য হচ্ছে ‘সোনার বাংলা’ গঠন করা। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইতিমধ্যেই বাংলার উন্নয়নের জন্য ৪০ হাজার কোটি টাকার প্রাথমিক সহায়তা দিয়েছেন এবং কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ে উন্নয়নের গতি আরও বাড়বে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কাটমানি ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের মাধ্যমে বাংলার প্রতিটি মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা হবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি তৃণমূল নেতাদের গ্রেফতারি, দুর্নীতির অভিযোগ, বিজেপি কার্যালয়ে হামলা, অনুপ্রবেশকারী চক্র, প্রশাসনিক সংস্কার এবং রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কড়া মন্তব্য করেন। বলেন, “আইনের হাত থেকে কেউ রেহাই পাবে না” এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

তিনি দাবি করেন, বর্তমান বিজেপি সরকার পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। তাঁর কথায়, “উন্নয়ন আর জনকল্যাণই বিজেপি সরকারের একমাত্র লক্ষ্য।”

Author

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Demo Ad
Sponsored Links

Most Popular

Recent Comments