কলকাতা পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation)-র অন্দরে ফের বড়সড় রাজনৈতিক আলোড়ন। এবার পদত্যাগ করতে চলেছেন তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)-র দুই হেভিওয়েট কাউন্সিলর তথা পুরসভার গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারী সুশান্ত ঘোষ (Sushanta Ghosh) এবং অরূপ চক্রবর্তী (Arup Chakraborty)। একের পর এক নেতার এভাবে পদত্যাগের সিদ্ধান্তে লোকসভা নির্বাচন ও পরবর্তী পুর-রাজনীতির সমীকরণে শাসকদলের অন্দরে বড়সড় ফাটল দেখা দিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
কলকাতা পুরসভার ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ (Sushanta Ghosh) এবং কলকাতা পুরসভার বরো চেয়ারম্যান অরূপ চক্রবর্তী (Arup Chakraborty)-র এই ইস্তফার সিদ্ধান্ত ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে কার্যত এক চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। গত কয়েকদিন ধরেই পুরসভার অলিন্দে এই দুই নেতার ক্ষোভ ও মান-অভিমান নিয়ে গুঞ্জন চলছিল। অবশেষে সেই জল্পনাই সত্যি হতে চলেছে।
কেন এই আচমকা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত?
দলীয় সূত্রের খবর, বেশ কিছুদিন ধরেই পুরসভার নিজস্ব কাজকর্ম, এলাকার উন্নয়ন এবং দলের অন্দরের কিছু সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন এই দুই বর্ষীয়ান নেতা। বিশেষ করে সুশান্ত ঘোষ (Sushanta Ghosh) তাঁর এলাকায় কাজ করার ক্ষেত্রে দলীয় স্তরে একতরফা হস্তক্ষেপ এবং কিছু অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। অন্যদিকে অরূপ চক্রবর্তী (Arup Chakraborty)-র পদত্যাগের নেপথ্যেও পুরসভার শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে নীতিগত মতবিরোধ এবং গুরুত্বহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা কাজ করছে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, লোকসভা ভোটের পর কলকাতা পুরসভার একাধিক ওয়ার্ডে তৃণমূলের ফলাফল নিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব পর্যালোচনা বৈঠক করেছিল। সেখানে একাংশের কাউন্সিলরদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। সম্ভবত সেই চাপ এবং দলের ভেতরের অভ্যন্তরীণ কোন্দল সহ্য করতে না পেরেই চরম সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন এই দুই নেতা।
পুরসভায় ফের ঘর ভাঙার খেলা!
কলকাতা পুরসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের একচেটিয়া ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও এভাবে একের পর এক নেতার পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ দলের অন্দরের সমন্বয়হীনতাকেই স্পষ্ট করে দিচ্ছে। সুশান্ত ঘোষ ও অরূপ চক্রবর্তী— দুজনেই কলকাতার বুকে দলের অত্যন্ত পরিচিত মুখ এবং নিজ নিজ এলাকায় তাঁদের যথেষ্ট জনসংযোগ রয়েছে। ফলে পুরভোট বা আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাঁদের এই সিদ্ধান্ত দলের ভোটব্যাঙ্কেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন নিচু তলার কর্মীরা।
দুই নেতার পদত্যাগের খবর প্রকাশ্যে আসতেই ড্যামেজ কন্ট্রোলে (Damage Control) নেমেছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। তাঁদের মান ভাঙিয়ে দলে ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে নাকি এই পদত্যাগপত্র সরাসরি গ্রহণ করে নতুন মুখের সন্ধান করা হবে, তা নিয়ে পুরভবনে দফায় দফায় বৈঠক চলছে। তবে এই ঘটনা যে কলকাতার পুর-রাজনীতিতে বিরোধী দলগুলিকে নতুন করে আক্রমণের অস্ত্র জোগাল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।


Recent Comments