রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসে বড়সড় অস্বস্তি। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তৃণমূলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দিলেন বারাসতের সাংসদ ডাঃ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। বুধবার দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সির কাছে পাঠানো চিঠিতে তিনি তাঁর এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
দীর্ঘদিনের এই নেত্রী অল ইন্ডিয়া মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন পদ-সহ দলের সমস্ত সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন। পদত্যাগের কারণ হিসেবে কাকলি ঘোষ দস্তিদার দলের অন্দরের অব্যবস্থা এবং নেতৃত্বের একাংশের আচরণের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেছেন যে, দলের অন্দরে মহিলা সাংসদদের প্রতি এক অভদ্র ও অশিক্ষিত সাংসদের অশালীন আচরণ তিনি আর বরদাস্ত করতে পারছেন না। যদিও তিনি নামোল্লেখ করেননি, তবে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, তাঁর নিশানায় রয়েছেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
শুধুমাত্র সহকর্মীর আচরণই নয়, বরং চিঠিতে তিনি দলের সামগ্রিক কার্যপদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। রেশন দুর্নীতি, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি এবং আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর মতো স্পর্শকাতর ঘটনাগুলো তাঁকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এছাড়া, দলের অন্দরে আইপ্যাকের (I-PAC) অত্যধিক ও অস্বচ্ছ প্রভাব নিয়েও তিনি তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, দলের ঐতিহ্যের সঙ্গে এই সংস্কৃতি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবারই কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে দেখা গিয়েছিল, যা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। তবে বুধবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত সেই জল্পনাকে আরও জোরালো করল।
চিঠিতে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, আপাতত তিনি দল ছাড়ছেন না। একজন সাধারণ কর্মী হিসেবেই মানুষের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, অনেকদিন ধরেই দলের ভেতরে কোণঠাসা বোধ করছিলেন তিনি। আর সেই জমে থাকা ক্ষোভই শেষ পর্যন্ত পদত্যাগের পথ বেছে নিতে বাধ্য করল তাঁকে।


Recent Comments