Susmita Das: মণ্ডপের বাইরে ছড়িয়ে রয়েছে জুতো, ব্যাগ ও দর্শনার্থীদের ফেলে যাওয়া নানা সামগ্রী। যে চোরবাগান দুর্গাপুজো মণ্ডপে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত উৎসবের আবহ ছিল, রবিবার সকালে সেখানেই নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পদপিষ্টের মর্মান্তিক ঘটনায় অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু এবং ২৫ জনের আহত হওয়ার খবর সামনে আসার পর থেকে থমথমে গোটা এলাকা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই এখনও ঘটনার অভিঘাত কাটিয়ে উঠতে পারেননি।
তাঁদের কথায়, “এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না, এমন ঘটনা আমাদের পাড়ায় ঘটতে পারে!” শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ আচমকা বৃষ্টি ও বিপুল ভিড়ের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে।
বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে বহু দর্শনার্থী আশ্রয়ের খোঁজে ছুটে আসায় মণ্ডপের প্রবেশ ও বেরোনোর পথে ভিড় জমে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, সরু রাস্তা, পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবকের অভাব এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণে ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। ঘটনার পর প্রশাসন মণ্ডপটি বন্ধ করে দিয়েছে। আহতদের কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
রাজ্য সরকার ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে; পুলিশও ভিড় নিয়ন্ত্রণে গাফিলতি ও আয়োজকদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে। কয়েক জন আয়োজক ও নিরাপত্তাকর্মীকে আটক করার খবরও মিলেছে। দুর্গাপুজোর আনন্দের মাঝে এমন মর্মান্তিক ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন বহু মানুষ।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, বিপুল দর্শনার্থীর সমাগমের পূর্বাভাস থাকা সত্ত্বেও নিরাপত্তা ও জরুরি নির্গমনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা কেন নিশ্চিত করা গেল না? তদন্তে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারিত হবে বলে আশা করছে প্রশাসন।

Recent Comments