“পুজোর কলকাতায় বামপন্থীদের বইয়ের স্টল ভাঙচুরের খবর পড়ে মন খারাপ হলো। যাদবপুরে স্টল সরাতে বুলডোজার আনার কথা পড়লাম।” রবিবার সামাজিক মাধ্যমে এই মন্তব্য করেছেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন।
তিনি লিখেছেন, “বাগুইআটিতে বই খালের জলে ফেলে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। বামপন্থীদের সমস্ত মতের সঙ্গে একমত হওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। তাঁদের রাজনীতির সমালোচনা করারও যথেষ্ট অবকাশ আছে। আমি তো খুব সমালোচনা তাঁদের রাজনীতির। কিন্তু তাঁদের বই বিক্রি করার অধিকার, মানুষের সেই বই কেনার ও পড়ার অধিকার নিশ্চয়ই আছে।
এই অধিকার স্বীকার করতে কাউকে বামপন্থী হতে হয় না। অন্যের মত প্রকাশের স্বাধীনতা কতটা মানছি, তা বোঝা যায় সেই মতটি আমার অপছন্দের হলে।
পুজো তো শুধু প্রতিমা আর মণ্ডপ দেখার উৎসব নয়। আড্ডা, গান, নতুন পত্রিকা, বই —এসবও পুজোর আনন্দের অংশ। ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে কেউ বইয়ের স্টলে দাঁড়াবেন, দুটো পাতা উল্টে দেখবেন, পছন্দ হলে কিনবেন। এই সামান্য আনন্দটুকুর জায়গা তো থাকা উচিত।
কোনও স্টলের অনুমতি বা অবস্থান নিয়ে সমস্যা থাকলে আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলা যায়। পথচারীদের চলাচল স্বাভাবিক রাখার ব্যবস্থাও করা যায়। নিয়ম থাকলে তা সকলের জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করাও যায়। রাজনৈতিক পরিচয় দেখে কাউকে বাধা দেওয়া, ভয় দেখানো, তাঁর বই নষ্ট করা কি গ্রহণযোগ্য হতে পারে?
আশা করছি অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হবে। প্রশাসন নিশ্চিত করবে, মানুষ নির্বিঘ্নে বই বিক্রি করতে পারবেন, কিনতে পারবেন। বই হাতে নিয়ে মানুষকে বইয়ের স্টল পাহারা দিতে হবে না।
যে শহর বইকে এত ভালবাসে, সেই শহরে বইয়ের স্টলগুলো নিরাপদ থাকুক।”


Recent Comments