হলিউডের আলো ঝলমলে মঞ্চে, একঝাঁক তারকাদের উপস্থিতিতে শনিবার রাতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ডিরেক্টরস গিল্ড অফ আমেরিকার (ডিজিএ) পুরষ্কার অনুষ্ঠান। বাইরে থেকে দেখলে সবটাই যেন উৎসব কিন্তু মঞ্চে উঠে প্রথম বক্তৃতাতেই উৎসবের আবরণ সরিয়ে বাস্তবের কথা শোনালেন সংগঠনের নবনির্বাচিত সভাপতি ক্রিস্টোফার নোলান।
‘ওপেনহাইমার’-এর জন্য শীর্ষ পুরষ্কার জিতে যিনি দুই বছর আগে এই একই মঞ্চে ছিলেন একজন বিজয়ী পরিচালক হিসেবে, এবার তিনি উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়নের নেতা হিসেবে। সেপ্টেম্বরে হলিউড পরিচালকদের সংগঠনের দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম ডিজিএ অ্যাওয়ার্ডসের সভাপতিত্ব করলেন নোলান। শুরুতেই গিল্ডের বোর্ড সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি কক্ষে উপস্থিত পরিচালক ও নির্মাতাদের উদ্দেশে বলেন যে; সংগঠনের কাজে সন্তুষ্ট হোন বা না হোন, সকলেরই এগিয়ে আসা দরকার। তাঁর কথায়, “আমাদের যত বেশি কণ্ঠস্বর থাকবে, ততই আমরা শক্তিশালী হব।”
নোলান স্বীকার করেন, পরিচালকের পেশা অনেক সময়েই একাকী হয়ে ওঠে। সেই কারণেই এই ধরনের সম্মেলন কেবল পুরস্কারের মঞ্চ নয়, বরং পারস্পরিক কথোপকথন ও স্টুডিওগুলোর সঙ্গে আলোচনায় ঐক্য গড়ে তোলার সুযোগ হওয়া উচিত।
রসিকতার সুরে তিনি বলেন, ব্যবসার কথা বেশি বলা উচিত নয়, তবু আলোচনা কমিটির সদস্যদের প্রশংসা করতে ভোলেননি যাঁরা গত কয়েক মাস ধরে বদলে যাওয়া হলিউডের বাস্তবতা বোঝার চেষ্টা করছেন।
এই বক্তব্যের পেছনে রয়েছে হলিউডের বর্তমান টালমাটাল পরিস্থিতি। জুলাইয়ে মুক্তি পেতে চলেছে নোলানের বহুল প্রতীক্ষিত ছবি ‘দ্য ওডিসি’। ঠিক সেই সময়েই তিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন এমন এক শিল্পকে, যেখানে উৎপাদন কমেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চাকরির উপর চাপ তৈরি করছে এবং বড় স্টুডিওগুলোর মধ্যে একীভবনের সম্ভাবনা অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। সামনে রয়েছে স্টুডিও ও স্ট্রিমিং সংস্থাগুলোর সঙ্গে শ্রমিক সংগঠনগুলির আলোচনা যা ১১ মে থেকে শুরু হওয়ার কথা, এর আগে নিজেদের দরকষাকষি শুরু করেছে SAG-AFTRA এবং রাইটার্স গিল্ড অফ আমেরিকা।
উৎসবের রাতে বাস্তবের কঠিন পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন নোলান। তাঁর কথায়, ২০২৪ সালে ডিজিএ সদস্যদের কর্মসংস্থান প্রায় ৪০ শতাংশ কমে গিয়েছিল এবং ২০২৫ সালেও সেই পতন অব্যাহত। তবু দর্শকদের উপর আস্থা রাখেন তিনি। দর্শকরা যে বিনিয়োগ করে চলেছেন সময় ও অর্থের মাধ্যমে তা ফেরত দেওয়ার দায় শিল্পেরই। তাঁর মতে, পরিচালকরা কেবল প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা নির্মাতা নন, তাঁরা গল্পকার যাঁদের হাত ধরেই পর্দায় আসে নতুন ভাবনা, নতুন ভাষা।
স্টুডিও প্রধানদের উদ্দেশ্যে নোলান বলেছেন, দর্শকের প্রত্যাশা বোঝার দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত নির্মাতাদের কাঁধেই। প্রযুক্তি বদলাবে, বিতরণের ধরন বদলাবে কিন্তু দর্শকের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করার লড়াই থেকেই যাবে। আর সেই লড়াইয়ের সেরা প্রমাণ, তাঁর মতে, সেদিন রাতের মঞ্চে উপস্থাপিত কাজগুলোই।
ঝলমলে পুরস্কারের রাতে তাই নোলানের বক্তৃতা শুধু অভিনন্দনকে ঘিরে ছিল না, বরং তার ছিল হলিউডের বর্তমান সংকটের এক স্পষ্ট স্বীকারোক্তি যেখানে আশার আলো আছে, তবে তার জন্য দরকার একসঙ্গে দাঁড়ানোর মানসিকতা।

