এসআইআর (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়ায় রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে জমা দেওয়া তালিকায় বহু ক্ষেত্রে নির্দেশিকা লঙ্ঘন করা হয়েছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikary) এই অভিযোগ জানিয়ে দাবি করেছেন, তালিকায় প্রকৃত গ্রুপ-বি কর্মকর্তার পরিবর্তে অন্যান্য স্তরের কর্মচারীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তমলুক জেলা কার্যালয়ে সংবাদিকদের তিনি বলেন, “কিছু ক্ষেত্রে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা পঞ্চায়েত স্তরের কর্মচারীদের নামও তালিকায় যুক্ত হয়েছে। এই ধরনের তথ্য আদালতে জমা দেওয়া হলে তা আদালত অবমাননার পর্যায়ে পড়তে পারে এবং প্রয়োজনে এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশ এবং রাজ্যের প্রশাসনিক ভূমিকা প্রসঙ্গে শুভেন্দুবাবু বলেন, ৯ ফেব্রুয়ারির সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক ক্ষমতা ও ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়াকে সমর্থন করা হয়েছে। কমিশনের রূপরেখা অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক সার্কুলারে স্পষ্ট করা হয়েছে যে ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে ইআরও ও এআরও-দের আইন ও কমিশনের নির্দেশিকা মেনে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক চাপের প্রভাব পড়া উচিত নয়।
তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে সতর্ক করে বলেন, নির্দেশিকা উপেক্ষা করে কোনও সিদ্ধান্ত নিলে তা আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে এবং আদালতের নজরদারির আওতায় আসতে পারে।
বিরোধী দলনেতা অভিযোগ করেন, এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধ করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন স্তরে চাপ সৃষ্টি করা হলেও সুপ্রিম কোর্ট সেই প্রচেষ্টায় সায় দেয়নি। নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও কর্তৃত্বকে পুনরায় নিশ্চিত করেছে। ভোটার তালিকায় ছোটখাটো ত্রুটি দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে শুনানি কেন্দ্রে আনিয়ে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল, যাতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করা যায়; কিন্তু আদালতের নির্দেশের ফলে সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা সঠিকভাবে কার্যকর হচ্ছে কিনা সে বিষয়েও বিজেপি নজরদারি চালিয়ে যাবে।”
তিনি বলেন, “ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ আইনসম্মত ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হওয়া গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য সুস্পষ্ট নীতি গ্রহণ, দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা শূন্যপদ পূরণ এবং নিয়মিত নিয়োগ পরীক্ষা চালুর মাধ্যমে রাজ্যের যুবসমাজের প্রত্যাশা পূরণ করা প্রয়োজন।”


Recent Comments