Susmita Das: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভের আগে আটক হওয়া ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র তিন শীর্ষ নেতা অবশেষে মুক্তি পেলেন। রবিবার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে অভিজিৎ দিপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে আগামী এক বছর শান্তিভঙ্গ করা যাবে না-এই শর্ত তাঁদের উপর আরোপ করা হয়েছে। সিজেপির আইনি বিভাগের প্রধান রত্না সিং সমাজমাধ্যমে এই মুক্তির খবর জানান।
শনিবার দিল্লিতে পৌঁছনোর পর বিমান থেকে নামার আগেই ওই তিন নেতাকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করতে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের পরিকল্পনা করেছিল সিজেপি। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আশঙ্কায় কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানা যায়।
পুলিশ সূত্রে খবর, তিন নেতার বিরুদ্ধে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১২৬ ও ১৭০ ধারা প্রয়োগ করা হয়েছিল। শান্তি বজায় রাখার জন্য নিরাপত্তা মুচলেকা দেওয়ার শর্তে তাঁদের ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়। এরপরই মুক্তির নির্দেশ আসে। শর্ত অনুযায়ী, আগামী এক বছর তাঁদের এমন কোনও কাজ করা চলবে না, যা শান্তিভঙ্গ বা জনশৃঙ্খলার অবনতির কারণ হতে পারে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে রাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত। শনিবার বিক্ষোভ ঠেকাতে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং বহু প্রতিবাদকারীকে আটক করা হয়। বিরোধী নেতারাও বিক্ষোভে যোগ দিতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। সিজেপি জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে ওঠা অভিযোগ এবং প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে প্রশাসনের পদক্ষেপ এখন রাজনৈতিক ও আইনি আলোচনার কেন্দ্রে। তবে এসআইআর নিয়ে অভিযোগগুলির সত্যতা নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবস্থান-দুই বিষয়েই আরও স্পষ্টতা প্রয়োজন।

Recent Comments