দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক বিভাস সর্দারকে ঘিরে হামলার অভিযোগ উঠল। শনিবার নিজের বিধানসভা এলাকার তিলপি গ্রামে জনসংযোগ কর্মসূচি সেরে ফেরার পথে পরপর দু’টি জায়গায় তাঁর গাড়ি আটকে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় বিধায়কের গাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি তাঁকে মারধর করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। অভিযোগের আঙুল উঠেছে বিজেপির স্থানীয় নেতা ও কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেছে বিজেপি।
জানা গিয়েছে, শনিবার ধোসা-চন্দনেশ্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত তিলপি গ্রামে জনসংযোগের কাজে গিয়েছিলেন বিভাস সর্দার। সেখান থেকে ফেরার সময় জয়নগর থানার অন্তর্গত মনসাতলা এলাকায় প্রথমে তাঁর গাড়ি আটকানো হয় বলে অভিযোগ। সেখান থেকে কোনওরকমে বেরিয়ে এলেও পরে গোয়ালবেড়িয়া হাট এলাকায় ফের বাধার মুখে পড়েন তিনি। বিধায়কের অভিযোগ, দুই জায়গাতেই তাঁকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ও ডিম ছোড়া হয়। এমনকি তাঁর গাড়িতে বোমা ছোড়ার চেষ্টাও করা হয় বলে দাবি করেছেন তিনি। তবে বোমাটি ফাটেনি বলে জানান বিধায়ক।
বিভাস সর্দারের বক্তব্য অনুযায়ী, মনসাতলায় কয়েকজন তাঁর গাড়ি আটকে হুমকি দিতে শুরু করেন। এরপর গাড়ির সামনের কাচ লক্ষ্য করে ইট ছোড়া হয়। পরিস্থিতি সামাল দিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে আসার পর গোয়ালবেড়িয়া হাটে ফের তাঁকে আক্রমণ করা হয় বলে অভিযোগ। তাঁর দাবি, মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করা হয় এবং বুকে চড়-থাপ্পড় ও ঘুষি মেরে মারধর করা হয়। হামলার সময় তাঁকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী হওয়া এবং নির্বাচনে জেতা নিয়ে কটূক্তি করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
ঘটনার খবর পেয়ে ধোসা হাট ক্যাম্পের পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিধায়ককে উদ্ধার করে এলাকা থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়। পরে শনিবার রাতেই তাঁকে চিকিৎসার জন্য বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর সিটি স্ক্যান করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনার পর বিজেপির স্থানীয় নেতা সন্দীপ নাইয়া-সহ সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান বিধায়ক।
তবে বিধায়কের অভিযোগের পাল্টা বক্তব্য দিয়েছেন বারুইপুর পূর্ব বিধানসভার বিজেপির তিন নম্বর মণ্ডল সভাপতি সন্দীপ নাইয়া। তাঁর দাবি, তিলপি এলাকায় আবাস যোজনার সমীক্ষার কাজ চলছিল। সেই সময় বিধায়ক সেখানে গিয়ে তৃণমূলের নেতা ও কর্মীদের একত্রিত করেন এবং উস্কানিমূলক মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ বিজেপি নেতার। পরে ধোসা হাট এলাকায় দলের কর্মী-সমর্থকেরা বিধায়কের কাছে কৈফিয়ত চাইতে গেলে তাঁর গাড়ি দ্রুতগতিতে বেরিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকজন আহত হন বলে পাল্টা দাবি করেছেন তিনি।
সন্দীপ নাইয়ার আরও অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে মনসাতলা ও গোয়ালবেড়িয়া হাট এলাকায় জনরোষের মুখে পড়েন বিধায়ক। তাঁর গাড়ির চাকায় পা পিষ্ট হয়ে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। আহতদের জয়নগর এক নম্বর ব্লকের পদ্মেরহাট ব্লক গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে।
একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী অভিযোগে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একদিকে বিধায়কের উপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ, অন্যদিকে বিজেপির তরফে পাল্টা আহত হওয়ার দাবি—সব মিলিয়ে ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অভিযোগগুলির সত্যতা এবং ঘটনার নেপথ্যে কারা জড়িত, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।


Recent Comments