সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াধের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় অন্তত ১২ জনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। এই ঘটনায় ৩০০-রও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে সৌদি আরবের তরফে জানানো হয়েছে। নিহতদের মধ্যে সাতটি দেশের নাগরিক রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। বিমানবন্দরের মতো অসামরিক পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারত। অবিলম্বে এই ধরনের হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক।
সৌদি আরবের দাবি, নিহতদের মধ্যে আমেরিকা, বাংলাদেশ, মিশর, জর্ডন, প্যালেস্তাইন, সিরিয়া ও সুদানের নাগরিক রয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবারের হামলার পর পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে সর্বশেষ হামলার দায় হুথি গোষ্ঠী স্বীকার করেনি বলে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনার পর ভারতের বিদেশ মন্ত্রক একটি বিবৃতি প্রকাশ করে হামলার নিন্দা জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত কয়েক দিন ধরে রিয়াধের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বারবার হামলার ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে ১০ অক্টোবরের হামলায় প্রাণহানি, বহু মানুষের আহত হওয়া এবং সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় ভারত গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, অসামরিক পরিকাঠামোর উপর এ ধরনের আক্রমণ কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত বলেও স্পষ্ট জানিয়েছে নয়াদিল্লি। আন্তর্জাতিক স্তরে অসামরিক মানুষের নিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো রক্ষার বিষয়টি ফের সামনে এসেছে এই ঘটনার পর।
সৌদি সূত্রের দাবি, গত সাত দিনের মধ্যে তিন বার দেশটিকে নিশানা করেছে হুথি গোষ্ঠী। রিয়াধের পাশাপাশি পূর্ব সৌদি আরবের দাম্মামে কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছেও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে। এই হামলাগুলিকে যুদ্ধাপরাধ বলে অভিহিত করেছে সৌদি আরব। যদিও আগের কয়েকটি হামলার দায় স্বীকার করলেও সর্বশেষ ঘটনার দায় হুথি গোষ্ঠী নেয়নি।
এদিকে, সৌদি আরবের পাশে আমেরিকা দাঁড়াবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এই বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। হামলার খবর পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
পরপর হামলার জেরে সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হামলা হওয়ায় বিমান চলাচল, যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপ্রকৃতির দিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।


Recent Comments