Ankita Mondal: ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র ‘যন্তর মন্তর ২.০’ বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতার যে ছক কষা হয়েছিল, তা আগে থেকেই আঁচ করে ফেলেছিল কেন্দ্র। আর সেই কারণেই রাজধানী জুড়ে বসানো হয়েছিল নজিরবিহীন নিরাপত্তার ঘেরাটোপ। সরকারি সূত্রে দাবি, গোয়েন্দা রিপোর্টেই সতর্ক করা হয়েছিল।
সরকারি সূত্র জানাচ্ছে, গোয়েন্দা সংস্থাগুলি সতর্ক করেছিল যে, CJP-র পরিকল্পনা ছিল মধ্য দিল্লির একাধিক জায়গাকে ‘মিনি যন্তর মন্তর’ বানিয়ে দেওয়ার। সামনে ছাত্র-যুবদের রেখে অশান্তি ছড়ানোর ছক ছিল।
২০ জুলাইয়ের ‘চলো সংসদ’ মিছিলের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েছে প্রশাসন। সেবার CJP একদিনের অনুমতি নিয়ে ২০ দিন ধরে যন্তর মন্তরে তাঁবু খাটিয়ে বসেছিল। বার্নার ফোন, সিগন্যালের মতো এনক্রিপ্টেড অ্যাপ এবং পিয়ার-টু-পিয়ার মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করে পুলিশকে চমকে দিয়েছিল তারা। এক সরকারি কর্তা জানিয়েছেন, “সেবার বিশ্বাস করে জমায়েত করতে দেওয়ায় সব ধরনের লোক, বিশেষ করে অল্পবয়সী ছাত্ররা জড়ো হয়েছিল। এবার আমরা সেই ফাঁদে পা দিতে চাইনি।”
কীভাবে ঠেকানো হল?
১. বড় পুলিশি পরিধি: লুটিয়েন্স জোনকে বাঁচাতে যন্তর মন্তরের অনেক আগে থেকেই ব্যারিকেড বসানো হয়। কাউকে ভিতরে ঢুকতেই দেওয়া হয়নি।
২. ছোট ছোট দলকে আটক: দিল্লির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে CJP এবং বিরোধী সমর্থকদের আটক করা হয়, যাতে ছোট ছোট দলগুলি এক জায়গায় জড়ো হয়ে বড় জমায়েত করতে না পারে।
৩. রিয়েল-টাইম নজরদারি: মেশ মেসেজিং অ্যাপ থেকে রিয়েল-টাইম তথ্য নিয়ে আন্দোলনকারীদের অবস্থান, দলের আকার এবং গতিবিধি ট্র্যাক করে কমান্ড সেন্টার থেকে পুলিশকে সরানো হয়েছে।
৪. অস্থায়ী আটক কেন্দ্র: ১০০০-এর বেশি আন্দোলনকারীকে আটকের জন্য ছত্রশাল স্টেডিয়াম, মেজর ধ্যানচাঁদ ন্যাশনাল স্টেডিয়াম, বাওয়ানার রাজীব গান্ধী স্টেডিয়াম এবং বুরারির নিরঙ্কারী সমাগম গ্রাউন্ডকে অস্থায়ী জেল বানানো হয়েছিল।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংহের মন্তব্যেই সরকারের কড়া মনোভাব স্পষ্ট – “গণতন্ত্রে ভিন্নমতের জায়গা আছে, কিন্তু নৈরাজ্যের কোনও জায়গা নেই। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করার ষড়যন্ত্র কখনও মেনে নেওয়া হবে না।”

Recent Comments