আজ আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে সিপিআই(এম) রাজ্য দপ্তরে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সাংবাদিক বৈঠকে দলের পলিটব্যুরো সদস্য এম এ বেবি এবং রাজ্যসম্পাদক মহম্মদ সেলিম আগামী দিনে বামেদের রাজনৈতিক অভিমুখ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য পেশ করেন। পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতাএবং আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে তাঁদের এই সাংবাদিক বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
১. শ্রেণিসংগ্রাম ও সামাজিক ন্যায়বিচার
এম এ বেবি তাঁর বক্তব্যে আত্মসমালোচনার সুরে জানান যে, অতীতে দল মনে করেছিল শুধুমাত্র ‘শ্রেণিসংগ্রাম‘ দিয়ে ভারতের সমস্ত সমস্যার সমাধানসম্ভব। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে তাঁরা উপলব্ধি করছেন যে, জাতপাত এবং লিঙ্গবৈষম্যের মতো গভীর সামাজিক সমস্যাগুলিকে বাদ দিয়েরাজনৈতিক পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমরা সামাজিক ন্যায়বিচার এবং শ্রেণিসংগ্রামকে সমান্তরালভাবে এগিয়ে নিয়েযাব।“
২. দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন লড়াই
মহম্মদ সেলিম রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণের ধার বাড়িয়ে বলেন যে, বর্তমান শাসকদলের আমলে পশ্চিমবঙ্গ এক ‘নজিরবিহীন দুর্নীতির‘ সাক্ষী থাকছে। শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্য—সর্বত্রই অরাজকতা চলছে। তিনি ঘোষণা করেন, “তৃণমূলের দুর্নীতি এবং বিজেপির সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধেবামপন্থীরাই একমাত্র বিকল্প। আমরা মানুষের দরজায় দরজায় যাব এবং এই দ্বিমুখী লড়াইকে আরও তীব্র করব।“
৩. নতুন রক্ত ও তরুণ নেতৃত্ব
এদিনের বৈঠকে অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয় ছিল সংগঠনের ভোলবদল। সেলিম সাহেব স্পষ্ট করে দেন যে, দল এখন তরুণদের সামনেরসারিতে নিয়ে আসতে বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন:
• দলের প্রতিটি স্তরে অন্তত ৪০% নতুন ও তরুণ মুখ আনা হবে।
• মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের মতো ছাত্র–যুব আন্দোলনের নেতাদের ওপর আরও বেশি দায়িত্ব অর্পণ করা হবে।
• মহিলাদের নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়নের জন্য পঞ্চায়েত এবং ওয়ার্ড স্তরে ‘মহিলা কাউন্সিল‘ গঠন করা হবে।
৪. ভবিষ্যৎ কৌশল: বাম ঐক্য ও ধর্মনিরপেক্ষতা
আসন্ন ২০২৬–এর বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে মহম্মদ সেলিম ‘বাম ঐক্যের‘ ওপর জোর দেন। তিনি জানান, রাজ্যের সমস্ত ধর্মনিরপেক্ষও গণতান্ত্রিক শক্তিকে একজোট করে তারা ময়দানে নামবেন। তাঁদের মূল লক্ষ্য হবে মানুষের মৌলিক চাহিদা—কাজ, খাদ্য এবং শিক্ষার অধিকারপুনরুদ্ধার করা।

