রাজ্যজুড়ে দুর্গাপুজোর উদ্বোধন নিয়ে ব্যস্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরই মধ্যে মঙ্গলবার দিল্লি সফরে যাচ্ছেন তিনি। পুজোর একাধিক কর্মসূচি সেরে রাজধানীতে যাওয়ার এই পরিকল্পনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জল্পনা। বিশেষ করে আসন্ন কলকাতা ও হাওড়া পুরসভার নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর বৈঠক নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে।
মঙ্গলবার নদিয়া ও উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় একাধিক পুজোর উদ্বোধন করার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। প্রথমে রানাঘাটের চারের পল্লি এবং কল্যাণীর নাইন-এ পার্কের দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করবেন তিনি। এরপর বনগাঁর গাঁধীপল্লি বিবেকানন্দ স্পোর্টিং ক্লাবের পুজো উদ্বোধনের কর্মসূচিতেও যোগ দেবেন শুভেন্দু। এই অনুষ্ঠানগুলি শেষ করে কলকাতায় ফিরে দমদম বিমানবন্দর থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেবেন তিনি।
নিজের দিল্লি সফরের কথা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তরফে ব্রিক্স-সংক্রান্ত একটি নৈশভোজের বৈঠক রয়েছে। সেই কর্মসূচিতেই যোগ দিতে বিকেলে দিল্লি যাবেন তিনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাতেই কলকাতায় ফিরে আসার কথা তাঁর।
তবে এই সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে কলকাতা ও হাওড়া পুরসভার নির্বাচন। বিজেপি সূত্রে খবর, নভেম্বর মাসে এই দুই পুরসভায় ভোট হতে পারে। সেই সম্ভাবনাকে মাথায় রেখে নির্বাচনী প্রস্তুতি, দলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি এবং প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও পুরভোট নিয়ে দিল্লিতে কোনও নির্দিষ্ট বৈঠক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে কিছু জানাননি।
রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দুই শহরের পুরসভা নির্বাচন বিজেপির কাছে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে। ফলে নির্বাচনের আগে দলের কৌশল নির্ধারণ এবং সংগঠনকে আরও মজবুত করার বিষয়টি নেতৃত্বের আলোচনায় উঠে আসতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। তবে বৈঠকে ঠিক কোন কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
দিল্লি সফর সংক্ষিপ্ত রেখেই বুধবার মুর্শিদাবাদে যাওয়ার কথা রয়েছে শুভেন্দুর। সেখানে একাধিক দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করবেন তিনি। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মুর্শিদাবাদ জেলাও বিজেপির কাছে গুরুত্বপূর্ণ। গত বিধানসভা নির্বাচনে জেলার ২২টি আসনের মধ্যে আটটিতে জয় পেয়েছিল বিজেপি। সম্প্রতি রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনেও বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার জয়ী হয়েছেন। ফলে পুজোর কর্মসূচির পাশাপাশি জেলায় দলের রাজনৈতিক অবস্থানও এই সফরে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে, দুর্গাপুজোর উদ্বোধন, দিল্লিতে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠক এবং পরের দিন মুর্শিদাবাদ সফর—ব্যস্ত কর্মসূচির মধ্যেই সময় কাটছে মুখ্যমন্ত্রীর। তবে কলকাতা ও হাওড়া পুরভোট নিয়ে বিজেপির পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


Recent Comments