ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। এরই মধ্যে তিলোত্তমার বুকে ঘটে যাওয়া এক রক্তক্ষয়ী ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে জোর চাঞ্চল্য। কলকাতার বাঘাযতীন (Baghajatin) এলাকায় রাতের অন্ধকারে এক তৃণমূল কর্মীকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এবার এই বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করল কমিশন। ঘটনার খুঁটিনাটি জানতে চেয়ে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঘাযতীনের পূর্ব ফুলবাগান (Purba Phulbagan) এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটেছে। গতকাল রাতে আচমকাই এলাকাটি গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, রাতের অন্ধকারকে কাজে লাগিয়ে দুষ্কৃতীরা এক তৃণমূল কর্মীকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। ওই কর্মীর মৃত্যু সংবাদ আসতেই এলাকায় উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করে।
নির্বাচন কমিশনের কড়া পদক্ষেপ
নির্বাচনী বিধি জারি হওয়ার পর রাজ্যের যেকোনো বড় অপরাধমূলক ঘটনার দায়ভার অনেককাংশেই কমিশনের ওপর বর্তায়। বিশেষ করে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বা কর্মীরা আক্রান্ত হলে কমিশন বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখে। বাঘাযতীনের এই ঘটনার পর জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে জবাবদিহি চাওয়া হয়েছে।
নির্বাচনের মুখে কলকাতার (Kolkata) মতো শহরে যখন কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং পুলিশের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা থাকার কথা, সেখানে এমন শ্যুটআউটের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) মতো রাজ্যে ভোটের সময় হিংসার ইতিহাস দীর্ঘ। তাই এই ঘটনাকে নিছক কোনো অপরাধ হিসেবে না দেখে এর গভীরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
এই ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে দোষারোপের পালা শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এটি তাদের দলের ওপর সুপরিকল্পিত হামলা। অন্যদিকে বিরোধী পক্ষ এই ঘটনাকে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল হিসেবে দেখছে। তবে আসল সত্য কী, তা পুলিশি তদন্ত এবং কমিশনের রিপোর্টের পরেই স্পষ্ট হবে।
বর্তমানে গোটা বাঘাযতীন এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বজায় রয়েছে। মানুষের মনে আস্থা ফেরাতে রুট মার্চ করছে নিরাপত্তা বাহিনী। তবে রাতের অন্ধকারে এই রক্তক্ষরণ নির্বাচন শুরুর আগেই যে প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।


Recent Comments