দীর্ঘ দুই দশকের অপেক্ষার অবসান। ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান এবং শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর, বাংলাদেশের (Bangladesh) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল জনাদেশ নিয়ে ক্ষমতায় ফিরছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপি (BNP)। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ভোটের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, ৩০০ আসনের সংসদে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে তারেক রহমান (Tarique Rahman)-এর নেতৃত্বাধীন বিএনপি। অন্যদিকে, নাটকীয়ভাবে দেশের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে উঠে এসেছে জামায়াতে ইসলামী (Jamaat-e-Islami)।
একনজরে নির্বাচনের ফলাফল: বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, বিএনপি এবং তাদের জোটসঙ্গীরা ২০০-র বেশি আসনে জয়লাভ করেছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী ও তাদের শরিকরা প্রায় ৬০-৭০টি আসন পেয়ে দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি হিসেবে সংসদে জায়গা করে নিয়েছে। আওয়ামি লীগ (Awami League) এই নির্বাচনে অংশ নেয়নি বা নিষিদ্ধ থাকায়, লড়াইটা মূলত ছিল বিএনপি বনাম জামায়াত জোটের মধ্যে। তবে ফলাফলে দেখা গেল, সাধারণ মানুষ ধানের শীষেই আস্থা রেখেছেন।
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন: লন্ডনে দীর্ঘ নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফেরা তারেক রহমানই যে এখন বাংলাদেশের রাজনীতির ‘কিং’, তা এই ফলাফলেই স্পষ্ট। মা খালেদা জিয়া (Khaleda Zia)-র মৃত্যুর পর দলের হাল ধরেছিলেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বেই বিএনপি ২০ বছর পর ক্ষমতার স্বাদ পেল। তবে জয়ের পর কোনো বিজয় মিছিল না করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। শুক্রবার জুমার নামাজের পর দেশজুড়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে।
বিরোধী আসনে জামায়াত: সবচেয়ে বড় চমক হলো জামায়াতে ইসলামীর উত্থান। একসময় কোণঠাসা হয়ে থাকা এই দলটি এবার সংসদে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান (Shafiqur Rahman) ফলাফল মেনে নিয়ে জানিয়েছেন, তাঁরা দেশ গঠনে ‘ইতিবাচক রাজনীতি’ করবেন।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া: বিএনপির এই ঐতিহাসিক জয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁরা আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন সরকারের আমলে দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশকে সাধুবাদ জানিয়েছে।
হাসিনাবিহীন বাংলাদেশে এই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ আগামী দিনে দেশকে কোন পথে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।
