প্রহর গোনার সময় যত এগিয়ে আসছে, ততই যেন শঙ্কা বাড়ছে বাংলাদেশের হিন্দুদের। কী হবে, কী হবে ভাব গ্রাস করছে। আজ, মানে ভোটের আগের দিন কথা বললাম ওঁদের কয়েক জনের সঙ্গে। অনুভব করলাম, কী ভীষণ অসহায়তা। প্রকাশ্যে মুখ খুলতে রাজি প্রায় কেউই নন।
রাজি ছিলেন না বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথও। আজীবন এই ভৃখণ্ডকেই মাতৃভূমি বলে অন্তর থেকে বিশ্বাস করেছেন। সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিত্ব। পারস্পরিক সৌহার্দ্য আর এই প্রতিবেদকের একাধিকবারের অনুরোধ উপেক্ষা করতে পারলেন না তিনি।
তিনি জানিয়েছেন, “বাংলাদেশে বসবাসরত ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘু ও আদিবাসী জনগোষ্ঠী স্বাধীনতার পরবর্তী সময় থেকেই বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থায় পরিচালিত হতে চেয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্য স্বাধীনতার দীর্ঘ ৫৫ বছরেও তা প্রতিফলিত হয় নি। নির্যাতন নিপীড়নের শিকার হয়ে মাতৃভূমি ছেড়ে চলে যেতে হয়েছে অনেককে, যার প্রমাণ বর্তমানে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের হার ১৯৭০ সালের ১৯% থেকে বর্তমানে ১০% এর নিচে নেমে এসেছে।
আগামীকাল অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচন। নির্বাচনপূর্ব সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর আচরণ এবং নির্বাচনী ইশতেহারে সংখ্যালঘুদের স্বার্থ সংরক্ষণের ও অধিকার নিশ্চিতকরণের বিষয়টি না থাকায় সংখ্যালঘু জনমনে গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে সংবিধানের রাষ্ট্রীয় মৌলনীতি থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা সামগ্রিক ভাবে উপেক্ষিত। এদেশের সংখ্যালঘুরা অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির পক্ষের ব্যক্তিতে জাতীয় সংসদে জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে দেখতে চায়।”

