পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) রাজ্য রাজনীতির ভরকেন্দ্র এখন যেন একটি নির্দিষ্ট ঠিকানায় এসে থমকে দাঁড়িয়েছে। ভবানীপুর (Bhabanipur), যা দীর্ঘকাল ধরে রাজ্যের শাসক দলের এক দুর্ভেদ্য রাজনৈতিক দুর্গ হিসেবেই আপামর মানুষের কাছে পরিচিত। আর সেই খাসতালুকেই এবার খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নিজের ওয়ার্ডে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিল বিরোধী শিবির। বিজেপি (BJP) প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সমর্থনে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির দোরগোড়ায় শুরু হয়ে গেল গেরুয়া শিবিরের মেগা প্রচার। নিউজস্কোপ বাংলার (Newscope Bangla) নিজস্ব প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অভাবনীয় রাজনৈতিক পদক্ষেপ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপের সৃষ্টি করেছে।
কলকাতার (Kolkata) বুকে ভবানীপুর বরাবরই হাইভোল্টেজ কেন্দ্র। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর নিজের ওয়ার্ডে দাঁড়িয়ে তাঁরই একসময়ের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা এবং বর্তমানের প্রধান বিরোধী মুখ শুভেন্দুর নামে স্লোগান তোলা— এটি নিছকই একটি সাধারণ প্রচার নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির রাজনৈতিক কৌশল। আজ সকাল থেকেই সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের অলিগলিতে গেরুয়া পতাকার ছড়াছড়ি চোখে পড়ে। দলের কর্মী-সমর্থকরা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ব্যাপক জনসংযোগ ও প্রচার চালাচ্ছেন। সাধারণ মানুষের কাছে তাঁরা তুলে ধরছেন বিরোধী প্রার্থীর রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি এবং শাসক দলের বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক অভিযোগের খতিয়ান।
বিজেপির এই আগ্রাসী মনোভাব অবশ্য নীরবে মেনে নিতে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)। নিজেদের শক্ত ঘাঁটিতে বিরোধীদের এই বাড়বাড়ন্ত রুখতে ইতিমধ্যেই কোমর বাঁধতে শুরু করেছে রাজ্যের শাসক দল। নিউজস্কোপ বাংলার কাছে আসা খবর অনুযায়ী, গেরুয়া শিবিরের এই প্রচার শুরু হতেই তড়িঘড়ি একটি জরুরি প্রস্তুতি বৈঠকের ডাক দিয়েছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। জানা গিয়েছে, এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন এলাকার সমস্ত প্রথম সারির নেতা, বুথ সভাপতি এবং নিচুতলার সক্রিয় কর্মীরা।
কীভাবে বিরোধীদের এই মনস্তাত্ত্বিক প্রচারের মোকাবিলা করা হবে, তা নিয়েই মূলত এই বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা। ঘাসফুল শিবিরের অন্দরের খবর, পাড়ায় পাড়ায় জনসংযোগ আরও নিবিড় করা, প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে রাজ্য সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির সুফল তুলে ধরা এবং বিরোধী দলের প্রচারের পাল্টা হিসেবে কড়া রাজনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণ করার মতো বিষয়গুলি এই প্রস্তুতি বৈঠকের মূল আলোচ্য সূচিতে রয়েছে। তৃণমূলের এক স্থানীয় নেতার কথায়, “ভবানীপুর আমাদের নেত্রীর নিজের জায়গা। এখানে অন্য কারও পায়ের তলার মাটি শক্ত করার কোনও সুযোগ নেই। আমরা রাজনৈতিকভাবেই এর কড়া জবাব দেব।”
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের দুই প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মধ্যে যে স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হল, তা আগামী দিনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। গেরুয়া শিবিরের নেতারা দাবি করছেন, খোদ মুখ্যমন্ত্রীর পাড়াতেই তাঁরা যে অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছেন, তা শাসক দলের জন্য একটি বড় অশনিসংকেত। তাঁদের বক্তব্য, এলাকার মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে এবং তাঁরা নির্ভয়ে নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে শুরু করেছেন।
অন্যদিকে, শাসক দলের নেতারা বিজেপির এই দাবিকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁদের পাল্টা দাবি, বহিরাগতদের এনে এই ধরনের লোকদেখানো প্রচার চালিয়ে এলাকায় অহেতুক উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা চলছে, যা এলাকার শান্তিকামী মানুষ কোনোভাবেই মেনে নেবেন না।


Recent Comments