ভিনরাজ্যে কাজে গিয়ে বাঙালি শ্রমিকদের মৃত্যু বা দুর্ঘটনা—সাম্প্রতিক সময়ে এই ঘটনাগুলো রাজ্য রাজনীতির শিরোনামে। কিন্তু এই মৃত্যুগুলো কি সত্যিই ‘ভাষাগত বিদ্বেষ’-এর ফল? নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো কারণ? শুক্রবার সল্টলেকের বিজেপি দপ্তরে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির প্রধান মুখপাত্র (Chief Spokesperson) আইনজীবী দেবজিৎ সরকার (Adv. Debjit Sarkar)। তাঁর দাবি, রাজ্যে এক পরিকল্পিত ‘মিথ্যা প্রচার’ বা মিসইনফরমেশন ক্যাম্পেইন (Misinformation Campaign) চালানো হচ্ছে, যা সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করছে।
কী বললেন দেবজিৎ সরকার? দেবজিৎ সরকারের অভিযোগ, রাজ্যের বাইরে কর্মরত বাঙালি শ্রমিকদের স্বাভাবিক মৃত্যু বা দুর্ঘটনাজনিত ঘটনাকেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ‘ভাষাগত আক্রমণ’ (Linguistic Hatred) হিসেবে দেখানো হচ্ছে। তিনি সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “প্রাথমিক তদন্ত, সিসিটিভি ফুটেজ (CCTV Footage) এবং এফআইআর (FIR)—কোথাও ভাষাগত বিদ্বেষের প্রমাণ মেলেনি। এমনকি মৃত শ্রমিকের পরিবারের বয়ানেও এমন কোনো ইঙ্গিত ছিল না। তবুও একাংশ একে রাজনৈতিক রং দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।”
কর্মসংস্থান বনাম রাজনীতি: বিজেপি মুখপাত্রের মতে, কর্মসংস্থানের অভাবেই রাজ্যের মানুষ দীর্ঘকাল ধরে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিচ্ছেন। এটি একটি জ্বলন্ত আর্থ-সামাজিক সমস্যা। কিন্তু এই মূল সমস্যার সমাধান না করে, বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলোকে কাজে লাগিয়ে বিভেদের রাজনীতি করা হচ্ছে। তাঁর আশঙ্কা, “এই ধরনের মিথ্যা প্রচার চলতে থাকলে দেশের অন্যান্য প্রান্তে কর্মরত বাঙালি শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং সামাজিক অবস্থান ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।”
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি: যেকোনো মৃত্যু বা হিংসার ঘটনাকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ আখ্যা দিয়ে দেবজিৎ সরকার দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান। তিনি সংশ্লিষ্ট রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের আর্জি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি রাজ্যবাসীকে অনুরোধ করেন, “যাচাই না করে কোনো গুজবে কান দেবেন না।”
মিডিয়া ও রাজনীতির ভূমিকা: তিনি অভিযোগ করেন, মিডিয়ার একাংশ এবং কিছু রাজনৈতিক মহল প্রমাণ ছাড়াই একটি নির্দিষ্ট ন্যারেটিভ (Narrative) বা বয়ান তৈরি করার চেষ্টা করছে। দায়িত্বজ্ঞানহীন রিপোর্টিং সমাজে অহেতুক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
রাজ্য বিজেপি সাফ জানিয়েছে, তারা এই স্পর্শকাতর বিষয়টির ওপর কড়া নজর রাখবে এবং তথ্যভিত্তিক আলোচনার পক্ষেই সওয়াল করবে। মিথ্যা প্রচার বন্ধ না হলে, আখেরে ক্ষতি হবে সেই মেহনতি মানুষগুলোরই—যাঁরা পেটের তাগিদে ঘর ছেড়েছেন।
