Thursday, February 26, 2026
Leaderboard Ad Space (728x90) - Responsive
Homeদেশমহাত্মা গান্ধীকে নিয়ে প্রবন্ধ লিখেই 'শাপমুক্তি'! যাবজ্জীবন কমে ১২ বছর, বম্বে হাই...

মহাত্মা গান্ধীকে নিয়ে প্রবন্ধ লিখেই ‘শাপমুক্তি’! যাবজ্জীবন কমে ১২ বছর, বম্বে হাই কোর্টের বিরল রায়

অপরাধের শাস্তি জেল, কিন্তু জেলের ভেতরে যদি অপরাধী নিজেকে বদলে ফেলে? মহাত্মা গান্ধী (Mahatma Gandhi) বলতেন, “পাপকে ঘৃণা করো, পাপীকে নয়।” সেই মন্ত্রেই কি এবার সিলমোহর দিল দেশের আদালত? ৫ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণের দায়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির শাস্তি কমিয়ে দিল বম্বে হাই কোর্ট (Bombay High Court)। কারণ জানলে অবাক হবেন—জেলে বসে ওই যুবক মহাত্মা গান্ধীকে নিয়ে প্রবন্ধ লিখেছেন এবং তাঁর দর্শনের ওপর পরীক্ষায় ভালো ফল করেছেন!

ঘটনার প্রেক্ষাপট: ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে মুম্বইয়ের ঘটকোপর (Ghatkopar) এলাকায় এক প্রতিবেশীর ৫ বছরের শিশুকন্যাকে ধর্ষণ করে ওই যুবক। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে এবং ২০২০ সালে পকসো (POCSO) আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। নিম্ন আদালতের সেই রায়ে কোনো ভুল নেই বলে জানিয়েছে হাই কোর্টও। কিন্তু তবুও সাজা কমিয়ে আজীবন কারাবাসের বদলে ১২ বছরের জেল দেওয়া হয়েছে।

কেন এই সাজা মকুব? বিচারপতি সারং কোতওয়াল (Sarang Kotwal) এবং বিচারপতি সন্দেশ পাতিল (Sandesh Patil)-এর ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, জেলের ভেতরে ওই আসামির আচরণ ছিল অত্যন্ত ভালো। তিনি নিজেকে শুধরানোর চেষ্টা করেছেন।

  • সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড: জেলে বসে তিনি একাধিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন।
  • গান্ধীবাদী চর্চা: মুম্বই সর্বোদয় মণ্ডল (Mumbai Sarvodaya Mandal)-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘গান্ধী বিচার ও দর্শন’ পরীক্ষায় সসম্মানে উত্তীর্ণ হয়েছেন। মহাত্মা গান্ধীর চিন্তাধারা নিয়ে দীর্ঘ প্রবন্ধ লিখেছেন।
  • সার্টিফিকেট: পুণের তিলক মহারাষ্ট্র বিদ্যাপীঠ (Tilak Maharashtra Vidyapeeth) থেকে গ্রন্থ সমালোচনার জন্য শংসাপত্রও পেয়েছেন।

আদালতের পর্যবেক্ষণ: হাই কোর্ট জানিয়েছে, আসামি অল্প বয়সে অপরাধটি করেছিল এবং করোনা পর্বেও সে জেলের ভেতরে কোনো গণ্ডগোলে জড়ায়নি। বরং নিজেকে সংশোধনের পথে এগিয়ে নিয়ে গেছে। তাই তাকে নতুন জীবন শুরুর সুযোগ দেওয়া উচিত।

তবে ৫ বছরের শিশুর ওপর হওয়া পৈশাচিক অত্যাচারের শাস্তি কি কেবল ‘ভালো আচরণ’ দিয়ে লাঘব করা যায়? এই প্রশ্ন তুলেছেন সমাজকর্মীদের একাংশ। তাদের মতে, এটি অপরাধীদের ভুল বার্তা দিতে পারে। কিন্তু আদালত মনে করছে, শাস্তির মূল উদ্দেশ্য শুধু কষ্ট দেওয়া নয়, বরং অপরাধীকে শুধরানো বা Reformation।

আরো পড়ুন:  সংসদের 'প্রশ্নবাণ' থেকেও মুক্তি! PM CARES নিয়ে আর কোনো জবাবদিহি নয়, সাফ জানাল প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর

গান্ধীজির অহিংসা আর সত্যের পথ কি সত্যিই একজন ধর্ষকের মন বদলে দিল? নাকি এটি কেবল সাজা কমানোর কৌশল? বিতর্ক থাকলেও, বম্বে হাই কোর্টের এই রায় ভারতীয় বিচার ব্যবস্থায় এক নজির হয়ে রইল।

Author

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Demo Ad
Sponsored Links

Most Popular

Recent Comments