আজ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য ও গুরুত্বপূর্ণ দিন। দীর্ঘ ১৮ মাস অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের পর দেশটিতে আজ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একই সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এটিই প্রথম সাধারণ নির্বাচন, যা ঘিরে পুরো দেশে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এক নজরে আজকের পরিস্থিতি:
আজ সকাল ৭:৩০ মিনিট থেকে ২৯৯টি আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, যা বিরতিহীনভাবে চলবে বিকেল ৪:৩০ মিনিট পর্যন্ত। প্রায় ১২ কোটি ৭৭ লাখ ভোটার আজকের এই নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। এবারের নির্বাচনের বিশেষত্ব হলো ‘জুলাই বিপ্লব’-এর পর নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি। নির্বাচন কমিশন সূত্র মতে, সারাদেশে প্রায় ৪২ হাজারেরও বেশি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে।
মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ও দলসমূহ:
শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় এবারের মূল লড়াই হচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান সকালেই নিজ নিজ কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন। এছাড়াও ছাত্রনেতাদের হাত ধরে গঠিত ‘জাতীয় নাগরিক কমিটি’ বা এনসিপি (১১ দলীয় জোট) এই নির্বাচনে একটি শক্তিশালী তৃতীয় পক্ষ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
সংবিধান সংশোধন ও গণভোট:
সাধারণ নির্বাচনের পাশাপাশি আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ গণভোটও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভোটাররা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রস্তাবিত ‘জুলাই চার্টার’ বা সাংবিধানিক সংস্কারের পক্ষে তাদের রায় দিচ্ছেন। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদের সীমাবদ্ধতা এবং দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের প্রস্তাব রয়েছে।
নিরাপত্তা ও পরিবেশ:
নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সারাদেশে প্রায় ৯ লাখ নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি এবং আনসার সদস্যরা কেন্দ্রগুলোতে কড়া নজরদারি রাখছেন। এখন পর্যন্ত দেশের অধিকাংশ স্থানে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণের খবর পাওয়া গেছে। নতুন ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে, যাকে অনেকেই ‘জেনারেশন জেদ’ (Gen Z)-এর বিপ্লব পরবর্তী প্রথম গণতান্ত্রিক পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন।
আগামীকাল ১৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করার কথা রয়েছে। আজকের এই ভোটই নির্ধারণ করবে আগামীর বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার ভবিষ্যৎ।
আরও পড়ুনঃ https://bengali.newscope.press/poison-of-division-in-assam-himanta-sails-on-hate

