রাজ্য রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন নাটকীয় মোড়। পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক কয়েক মাস আগেই নিজের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস (C.V. Ananda Bose)। হঠাৎ করে তাঁর এই পদত্যাগের সিদ্ধান্তে রাজ্য তো বটেই, এমনকি জাতীয় রাজনীতিতেও ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাজভবন (Raj Bhavan) সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (Droupadi Murmu) কাছে তাঁর পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন।দীর্ঘদিন ধরেই নবান্ন বনাম রাজভবন সংঘাত বাংলার রাজনৈতিক মহলে একটি চেনা ছবি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বিভিন্ন ইস্যুতে রাজ্য সরকারের সঙ্গে সি ভি আনন্দ বোসের (C.V. Ananda Bose) সংঘাত প্রকাশ্যে এসেছে বারবার। তা সত্ত্বেও নির্বাচনের ঠিক দোরগোড়ায় তাঁর এই সরে দাঁড়ানোকে ঘিরে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, তিনি হয়তো সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরতে পারেন এবং আগত নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ কোনো ভূমিকায় তাঁকে দেখা যেতে পারে। যদিও তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল থেকে এই বিষয়ে এখনও কোনো স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়নি।রাজভবন (Raj Bhavan) থেকে বিদায় নেওয়ার মুহূর্তে সি ভি আনন্দ বোস (C.V. Ananda Bose) বাংলার সাধারণ মানুষকে তাঁর হৃদয়ের অত্যন্ত কাছের বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বাংলায় কাজ করার সময় তিনি এখানকার সংস্কৃতি ও আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়েছেন। তবে ব্যক্তিগত কারণে বা অন্য কোনো বৃহত্তর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই সিদ্ধান্ত কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রেখেছেন তিনি। রাজভবনের (Raj Bhavan) প্রশাসনিক আধিকারিকদের একাংশ মনে করছেন, দিল্লির (Delhi) কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করার পরেই তিনি এই চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিয়েছেন।আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যপালের এই পদত্যাগ প্রশাসনিক স্তরে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করল। নিয়ম অনুযায়ী, নতুন রাজ্যপাল নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিবেশী কোনো রাজ্যের রাজ্যপালকে পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, ভোটমুখী বাংলায় (West Bengal) নতুন স্থায়ী রাজ্যপাল কে হবেন, তার ওপর নির্বাচনের অনেক সমীকরণ নির্ভর করছে।বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নানা প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করেছে। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) থেকে শুরু করে বিজেপি (BJP)—সব শিবিরই এখন এই পরিবর্তনের পরবর্তী পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে। সি ভি আনন্দ বোস (C.V. Ananda Bose) কি দিল্লির (Delhi) রাজনীতিতে কোনো বড় পদ পাচ্ছেন, নাকি কেরলের (Kerala) হয়ে সরাসরি নির্বাচনী লড়াইয়ে নামবেন, তা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) রাজনৈতিক অস্থিরতার এই সন্ধিক্ষণে রাজ্যপালের বিদায়ে সাধারণ মানুষের মনেও কৌতূহল দানা বেঁধেছে। পরবর্তী সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে কে কলকাতায় (Kolkata) পা রাখবেন এবং রাজ্য সরকারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কেমন হবে, সেদিকেই এখন সবার নজর।
বাংলা ছাড়ছেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস, বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগেই পদত্যাগ করলেন তিনি
0
8
RELATED ARTICLES

