সপ্তাহের প্রথম দিন। বাচ্চারা সবেমাত্র ক্লাস (Class)-এ ঢুকেছে, আর ঠিক তখনই স্কুলগুলোর ইনবক্সে (Inbox) ভেসে উঠল এক হাড়হিম করা বার্তা। “দুপুর ১টা ১১ মিনিটে সব শেষ হয়ে যাবে!” ফের বোমাতঙ্কে (Bomb Scare) কেঁপে উঠল রাজধানী দিল্লি (Delhi)। সোমবার সকালে দিল্লির অন্তত ১০টি নামী স্কুলে ইমেল (Email) করে বোমা রাখার হুমকি দেওয়া হয়েছে। তবে আতঙ্কের পারদ আরও চড়িয়েছে ইমেলে থাকা আরেকটি লাইন—সেখানে খোদ ভারতীয় সংসদ ভবন বা পার্লামেন্ট হাউজ (Parliament House)-কেও বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
কী লেখা ছিল সেই ইমেলে? পুলিশ (Police) সূত্রে খবর, সোমবার সকালে দিল্লির একাধিক স্কুলের প্রিন্সিপালদের কাছে একটি সন্দেহজনক ইমেল আসে। প্রেরকের নামের জায়গায় লেখা ছিল ‘খলিস্তান ন্যাশনাল আর্মি’ (Khalistan National Army)। সেই ইমেলে স্পষ্ট লেখা ছিল, “আজ দুপুর ১টা ১১ মিনিটে স্কুলগুলোতে বিস্ফোরণ ঘটবে।” এখানেই শেষ নয়, হুমকিদাতারা আরও জানিয়েছে, আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি দুপুরে একই সময়ে ‘হিন্দুস্তানি পার্লামেন্ট’-এও (Hindustani Parliament) হামলা চালানো হবে। সঙ্গে ছিল কাশ্মীরি বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা আফজল গুরু (Afzal Guru)-র প্রসঙ্গও।
স্কুল চত্বরে হুলস্থুল: খবর ছড়াতেই মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে স্কুল চত্বরে। তড়িঘড়ি সাইরেন বাজিয়ে ক্লাস বন্ধ করে দেওয়া হয়। বাচ্চাদের মাঠের খোলা জায়গায় (Open Ground) নিয়ে যাওয়া হয়। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বম্ব স্কোয়াড (Bomb Squad), ডগ স্কোয়াড (Dog Squad) এবং দমকল বাহিনী (Fire Brigade)। প্রতিটি ক্লাসরুম, ব্যাগ এবং স্কুলের কোণায় কোণায় তল্লাশি চালানো হয়। গেটের বাইরে তখন উদ্বিগ্ন অভিভাবকদের (Parents) ভিড়। ট্রাফিক জ্যামে আটকে পড়ে গোটা এলাকা। অনেকে অফিস ফেলে পাগলের মতো ছুটে আসেন সন্তানকে বাড়ি নিয়ে যেতে।
পুলিশের (Police) বক্তব্য: দিল্লি পুলিশ (Delhi Police) জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত স্কুলগুলোতে সন্দেহজনক কিছু মেলেনি। প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, এটি একটি ‘Hoax Call’ বা ভুয়ো হুমকি, যার উদ্দেশ্য শুধুই আতঙ্ক ছড়ানো। তবে ইমেলে খলিস্তান (Khalistan) এবং আফজল গুরুর প্রসঙ্গ থাকায় বিষয়টিকে হালকাভাবে নিচ্ছে না সাইবার সেল (Cyber Cell)। আইপি অ্যাড্রেস (IP Address) ট্র্যাক করে প্রেরককে খোঁজার কাজ শুরু হয়েছে।
বারবার কেন টার্গেট? গত বছরের অগস্টেও স্বাধীনতা দিবসের (Independence Day) পর দিল্লির ৫০টিরও বেশি স্কুলে একই কায়দায় ভুয়ো ইমেল পাঠানো হয়েছিল। নভেম্বরে লালকেল্লার (Red Fort) কাছে বিস্ফোরণের পর আদালতের এজলাসেও বোমার গুজব রটেছিল। বারবার এই ধরনের ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে, সাইবার নিরাপত্তার (Cyber Security) ফাঁকফোকর গলেই কি দুষ্কৃতীরা এমন সাহস পাচ্ছে? অভিভাবকদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—স্কুলে পাঠিয়ে কি তবে নিশ্চিন্ত থাকার দিন শেষ?
