Thursday, February 26, 2026
Leaderboard Ad Space (728x90) - Responsive
Homeদেশদিল্লির রাজপথে ক্ষোভের আগুন: ইউজিসির নতুন বিধি ও উত্তাল শিক্ষাঙ্গন

দিল্লির রাজপথে ক্ষোভের আগুন: ইউজিসির নতুন বিধি ও উত্তাল শিক্ষাঙ্গন

ইউজিসি (UGC)-র নতুন নিয়মকে কেন্দ্র করে ২০২৬ সালের শুরুতে দিল্লির শিক্ষাঙ্গন, বিশেষ করে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় (DU) এক চরম অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলার সাক্ষী হয়েছে। ইউজিসি প্রবর্তিত ‘ইকুইটি রেগুলেশন ২০২৬’ (UGC Equity Regulations 2026) নিয়ে ছাত্র সংগঠন ও বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত রাজপথ থেকে আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।

বিশৃঙ্খলার সূত্রপাত ও কারণ

ইউজিসির এই নতুন বিধির মূল লক্ষ্য ছিল উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতিগত বৈষম্য দূর করা এবং তফসিলি জাতি (SC), উপজাতি (ST) ও ওবিসি (OBC) পড়ুয়াদের জন্য সুরক্ষাকবচ তৈরি করা। এর অধীনে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘ইকুয়াল অপরচুনিটি সেন্টার’ এবং একটি শক্তিশালী ‘ইকুইটি কমিটি’ গঠন বাধ্যতামূলক করা হয়।

তবে এই নিয়ম ঘিরেই তৈরি হয় দুই বিপরীত মেরু:

• সাধারণ বিভাগের প্রতিবাদ: সাধারণ বা অসংরক্ষিত শ্রেণির পড়ুয়াদের একটি বড় অংশ মনে করছে এই নিয়ম ‘একপেশে’। তাদের দাবি, এই বিধিতে অভিযুক্তের ওপর প্রমাণের দায় চাপানো হয়েছে এবং এর অপব্যবহারের সম্ভাবনা প্রবল। জানুয়ারি মাসে দিল্লির ইউজিসি সদর দফতরের সামনে ‘সবর্ণ সেনা’ সহ বিভিন্ন সংগঠনের বিক্ষোভে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা।

• সমর্থন ও পাল্টাপাল্টি আন্দোলন: অন্যদিকে, বামপন্থী ছাত্র সংগঠন (যেমন AISA) এবং দলিত অধিকার রক্ষাকারী গোষ্ঠীগুলি এই নিয়ম অবিলম্বে কার্যকর করার দাবিতে সরব হয়। তাদের মতে, ক্যাম্পাসে প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য রুখতে এই কঠোর আইন জরুরি।

সংঘাত ও চরম বিশৃঙ্খলা

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে এই উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের নর্থ ক্যাম্পাসে একটি বিক্ষোভ চলাকালীন দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্র সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। বিশৃঙ্খলা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়।

এই ঘটনার একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো একজন সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ও সাংবাদিকের ওপর কথিত হামলা। অভিযোগ ওঠে যে, বিক্ষোভ কভার করতে গিয়ে তিনি নিগৃহীত হন। পাল্টাপাল্টি অভিযোগে ক্যাম্পাস উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং মৌরিস নগর থানায় মামলা-পাল্টা মামলা দায়ের করা হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য যোগেশ সিং শিক্ষক ও পড়ুয়াদের শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানান।

আরো পড়ুন:  শীর্ষ আদালতের নির্দেশিকা নিয়ে প্রকাশ্য মন্তব্যে প্রশ্ন

বর্তমান পরিস্থিতি ও আইনি হস্তক্ষেপ

বিক্ষোভের তীব্রতা দেখে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এই নতুন বিধির ওপর সাময়িকভাবে স্থগিতাদেশ জারি করেছে। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে যে, বিধির কিছু অংশ ‘অস্পষ্ট’ এবং এর অপব্যবহার হওয়ার সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন।

দিল্লির এই বিশৃঙ্খলা কেবল একটি প্রশাসনিক নিয়মের বিরোধ নয়, বরং এটি ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের সামাজিক ও জাতিগত মেরুকরণকে পুনরায় সামনে এনেছে। ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এখন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

Author

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Demo Ad
Sponsored Links

Most Popular

Recent Comments