back to top
Sunday, April 12, 2026
Leaderboard Ad Space (728x90) - Responsive
Homeবিনোদনবিদায় ‘ডোরেমন’-এর রূপকার: চলে গেলেন কিংবদন্তি পরিচালক সুতোমু শিবায়ামা

বিদায় ‘ডোরেমন’-এর রূপকার: চলে গেলেন কিংবদন্তি পরিচালক সুতোমু শিবায়ামা

শৈশবের সেই নীল রঙের রোবট বিড়াল আর তার পকেট থেকে বের হওয়া একের পর এক অদ্ভুত সব গ্যাজেট— আট থেকে আশি, ‘ডোরেমন’ (Doraemon) চেনেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দায়। কিন্তু সেই জাদুকরী দুনিয়ার নেপথ্য কারিগর আর আমাদের মধ্যে নেই। দীর্ঘ ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ডোরেমন সিরিজের একের পর এক কালজয়ী সিনেমা পরিচালনা করা কিংবদন্তি অ্যানিমে (Anime) পরিচালক সুতোমু শিবায়ামা (Tsutomu Shibayama) প্রয়াত হয়েছেন। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।পরিবার এবং তাঁর নিজস্ব স্টুডিও ‘আজিয়া-দো অ্যানিমেশন ওয়ার্কস’ (Ajia-do Animation Works)-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফুসফুসের ক্যান্সারের (Lung Cancer) সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর গত ৬ মার্চ তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তবে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনা হয়েছে সম্প্রতি। তাঁর পরিবারের ইচ্ছানুসারে ইতিমধ্যেই অত্যন্ত ব্যক্তিগতভাবে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।অ্যানিমেশন দুনিয়ার এক যুগের অবসানজাপানের (Japan) টোকিও (Tokyo) শহরের আসাকুসা (Asakusa) এলাকায় ১৯৪১ সালে জন্ম নেওয়া শিবায়ামা ছোটবেলা থেকেই সৃজনশীল কাজের প্রতি আগ্রহী ছিলেন। মেজি ইউনিভার্সিটি (Meiji University) থেকে পড়াশোনা শেষ করে তিনি যোগ দেন বিখ্যাত তোয়ে অ্যানিমেশন (Toei Animation)-এ। সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর সাফল্যের পথ চলা।পরবর্তীতে তিনি ‘শিন-এই অ্যানিমেশন’ (Shin-Ei Animation)-এ কাজ করেন এবং ১৯৭৮ সালে নিজের অ্যানিমেশন স্টুডিও ‘আজিয়া-দো’ (Ajia-do) প্রতিষ্ঠা করেন। তবে তাঁর কেরিয়ারের শ্রেষ্ঠ সময় ছিল ১৯৮৩ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি ডোরেমনের মোট ২২টি ফিচার ফিল্ম (Feature Films) পরিচালনা করেছেন। ‘নোবিতা অ্যান্ড দ্য ক্যাসেল অফ দ্য আন্ডারসি ডেভিল’ (Nobita and the Castle of the Undersea Devil) থেকে শুরু করে ‘নোবিতা ইন দ্য ওয়ান-নিয়ান স্পেস-টাইম ওডিসি’ (Nobita in the Wan-Nyan Space-time Odyssey)— প্রতিটি ছবিই শিশু-কিশোরদের মনের মণিকোঠায় জায়গা করে নিয়েছে।

পুরস্কার ও সম্মান

শুধুমাত্র ডোরেমন নয়, তাঁর হাত ধরে ‘নিনতামা রান্তারো’ (Nintama Rantaro) এবং ‘চিবি মারুকো-চ্যান’ (Chibi Maruko-chan)-এর মতো জনপ্রিয় সিরিজগুলো প্রাণ পেয়েছিল। অ্যানিমেশন জগতে তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য ২০১২ সালে তিনি জাপান সরকারের পক্ষ থেকে সম্মানজনক ‘এজেন্সি ফর কালচারাল অ্যাফেয়ার্স অ্যাওয়ার্ড’ (Agency for Cultural Affairs Award) লাভ করেন। এছাড়াও ১৯৯৮ সালে তাঁর পরিচালিত ‘নোবিতাস গ্রেট অ্যাডভেঞ্চার ইন দ্য সাউথ সিজ’ (Nobita’s Great Adventure in the South Seas) সেরা অ্যানিমেটেড ফিল্ম হিসেবে মাইনিচি ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড (Mainichi Film Award) জয় করে।

আরো পড়ুন:  শেষযাত্রায় আড়ম্বরহীন বিদায়

শোকস্তব্ধ অনুরাগীরা

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ অনুরাগী তাঁদের প্রিয় পরিচালকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। ভারতের (India) মতো দেশগুলোতে যেখানে ডোরেমন একটি কাল্ট (Cult) হিসেবে পরিচিত, সেখানে অনেকেই লিখেছেন— “আমাদের শৈশবকে রঙিন করে তোলার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।” শিবায়ামার মৃত্যুতে অ্যানিমে (Anime) ইন্ডাস্ট্রির এক অপূরণীয় ক্ষতি হলো। তাঁর চলে যাওয়া মানে একটি সোনালী অধ্যায়ের সমাপ্তি, কিন্তু তাঁর তৈরি করা চরিত্রগুলো কোটি কোটি মানুষের স্মৃতিতে বেঁচে থাকবে চিরকাল।

Author

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Demo Ad
Sponsored Links

Most Popular

Recent Comments