পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তরুণ প্রজন্মের নেতাদের মধ্যে প্রতিক উর রহমান একটি পরিচিত নাম। এসএফআই (SFI) তথা বামপন্থী রাজনীতির ময়দানে তিনি বরাবরই সপ্রতিভ। তবে সম্প্রতি সিপিআই(এম)-এর প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করার পর তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান এবং রাজ্য সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্প নিয়ে তাঁর ইতিবাচক মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও প্রতিকুরের পর্যবেক্ষণ
সাধারণত বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পকে “খয়রাতি” বলে সমালোচনা করা হলেও, প্রতিক উর রহমান এই প্রকল্পের একটি মানবিক ও সামাজিক দিক তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে:
- নারীর আত্মবিশ্বাস: প্রতিক উর উল্লেখ করেছেন যে, এই প্রকল্প বাংলার সাধারণ পরিবারের মহিলাদের হাতে সরাসরি টাকা পৌঁছে দেওয়ার ফলে তাঁদের মধ্যে একটি স্বনির্ভরতা ও আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে।
- আর্থ-সামাজিক গুরুত্ব: প্রান্তিক ও নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য এই স্বল্প পরিমাণ অর্থও যে বড় সহায় হতে পারে, তা তিনি স্বীকার করেছেন।
- বামপন্থীদের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন: তাঁর মতে, এই ধরনের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোকে শুরুতে বামপন্থীরা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে পারেনি। সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার এটি অন্যতম কারণ বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।
রাজনৈতিক তাৎপর্য
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিক উর এর এই ভোলবদল যথেষ্ট ইঙ্গিতবহ। বাম শিবিরের “আইকন” হিসেবে পরিচিত এই যুব নেতা যেখানে আগে তৃণমূল সরকারের কড়া সমালোচনা করতেন, সেখানে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো প্রকল্পের ভূয়সী প্রশংসা করা তাঁর তৃণমূল কংগ্রেসে (TMC) যোগদানের জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
“লক্ষ্মীর ভাণ্ডার শুধু দরিদ্র মানুষকে সাহায্যই করেনি, বরং এ রাজ্যের মহিলাদের আত্মমর্যাদাও বৃদ্ধি করেছে।” — প্রতিক উর রহমান
প্রতিক উর রহমানের এই অবস্থান কি শুধুমাত্র একটি প্রকল্পের প্রশংসা, নাকি রাজনৈতিক দলবদলুর আগে জমি প্রস্তুত করা—তা সময়ই বলবে। তবে তাঁর এই স্পষ্টভাষিতা প্রমাণ করে যে, বর্তমানে বাংলার রাজনীতিতে সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলো কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

