ভারতের (India) সংসদীয় কার্যকলাপে বুধবার, ২৫শে মার্চ ২০২৬ তারিখটি একটি উল্লেখযোগ্য দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রইল। এদিন সংসদের উভয় কক্ষেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিল পাশ হয়েছে। একদিকে যেমন দেশের অর্থনৈতিক দিশা নির্ধারণকারী বিলটি ছাড়পত্র পেয়েছে, তেমনই অন্যদিকে সামাজিক অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রেও একটি বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন দিল্লির (New Delhi) সংসদ ভবনে চলমান বাজেট অধিবেশনে এদিন সরকার পক্ষের বড় সাফল্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে এই জোড়া বিল পাশকে।
এদিন লোকসভায় (Lok Sabha) কণ্ঠভোটের মাধ্যমে ২০২৬ সালের অর্থ বিল বা ফিন্যান্স বিল পাশ হয়েছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ (Nirmala Sitharaman) বিলটির উপর হওয়া দীর্ঘ আলোচনার শেষে তাঁর জবাবী ভাষণ দেন। বিরোধীদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি তিনি সরকারের অর্থনৈতিক রূপরেখাও তুলে ধরেন। তাঁর এই ভাষণের পরেই বিলটি ভোটাভুটিতে যায় এবং সহজেই পাশ হয়ে যায়। জানা গিয়েছে, সরকার পক্ষের আনা ৩২টি সংশোধনীর সঙ্গেই এই অর্থ বিলটি ছাড়পত্র পেয়েছে। এর ফলে লোকসভাতে বাজেট অনুমোদনের যে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া, তার একটি বড় অধ্যায় সম্পূর্ণ হলো। আগামী দিনের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, পরিকাঠামো উন্নয়ন ও কর কাঠামো নির্ধারণের ক্ষেত্রে এই বিলের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে।
অন্যদিকে, রাজ্যসভায় (Rajya Sabha) এদিন পাশ হয়েছে রূপান্তরকামী ব্যক্তিদের অধিকার সংক্রান্ত সংশোধনী বিল, ২০২৬। এই বিলটি গত মঙ্গলবারই নিম্নকক্ষে পাশ হয়েছিল। বুধবার উচ্চকক্ষেও এটি অনুমোদন পেয়ে যাওয়ায়, এটি এবার চূড়ান্ত আইনে পরিণত হওয়ার পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল। এই সংশোধনী বিলে ২০১৯ সালের মূল আইনটিতে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে সামাজিক অভিমুখীকরণ বা সোশ্যাল ওরিয়েন্টেশনকে এই আইনের আওতার বাইরে রাখার কথা বলা হয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রূপান্তরকামী সম্প্রদায়ের কোনো ব্যক্তির উপর হওয়া আঘাত বা ক্ষতির মাত্রার ওপর ভিত্তি করে শাস্তির বিধানও নির্দিষ্ট করা হয়েছে এই বিলে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী জানিয়েছেন, এই সংশোধনীর মূল উদ্দেশ্য হলো রূপান্তরকামী ব্যক্তিদের আইনি স্বীকৃতি ও সুরক্ষা সুনিশ্চিত করা। সমাজে তাঁদের অধিকার যাতে আরও বেশি সুরক্ষিত থাকে, সাধারণ মানুষের মতো তাঁরাও যাতে সমান মর্যাদায় বাঁচতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়টি যে আইনি ও সামাজিক লড়াই চালিয়ে আসছে, এই বিল পাশ হওয়া তাঁদের সেই সংগ্রামের পথে একটি বড় জয়।
এদিকে, সংসদীয় কাজকর্মের সূচি নিয়েও এদিন একটি বড় ঘোষণা করা হয়েছে। গত সপ্তাহে ছুটির কারণে সংসদের যে সময় নষ্ট হয়েছিল, তা পুষিয়ে নেওয়ার জন্য আগামী ২৮ ও ২৯ মার্চ, অর্থাৎ শনি ও রবিবার ছুটির দিনেও অধিবেশন বসার কথা ছিল। কিন্তু বুধবার সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু (Kiren Rijiju) উচ্চকক্ষে জানিয়েছেন যে, আগামী সপ্তাহান্তে সংসদের কোনো অধিবেশন বসছে না। ‘বর্তমান পরিস্থিতি’-র কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে এই ‘পরিস্থিতি’ বলতে তিনি ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও সাংবাদিক মহলে তুমুল জল্পনা শুরু হয়েছে।
সব মিলিয়ে বুধবারের বাজেট অধিবেশন ছিল অত্যন্ত তৎপরতাপূর্ণ। একদিকে অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, অন্যদিকে সামাজিক স্তরে অধিকার রক্ষার আইনি পদক্ষেপ—সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এই বিলগুলির সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে চলেছে। অর্থনৈতিক দিক থেকে অর্থ বিলের অনুমোদন সরকারের পরবর্তী জনকল্যাণমুখী প্রকল্পগুলোকে আরও মসৃণ করবে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বিশ্লেষক—সবার নজর এখন এই নতুন আইনগুলোর দ্রুত বাস্তবায়নের দিকে।


Recent Comments