দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুরের নাজিরাবাদে ফের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘিরে ছড়াল চাঞ্চল্য। মাত্র আট মাস আগে যে মোমো গুদামে আগুন লেগে প্রাণ হারিয়েছিলেন ১১ জন শ্রমিক, শুক্রবার রাতে সেই গুদামেই ফের আগুন লাগে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের চারটি ইঞ্জিন ও পুলিশ। অগ্নিকাণ্ডের কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছেন দমকলের আধিকারিকেরা।
শুক্রবার রাতের এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। কীভাবে আগুন লাগল, তা স্পষ্ট নয়। আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছন সোনারপুর উত্তরের বিধায়ক দেবাশিস ধরও।
গুদামের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি এই গুদামে আগুন লেগে ১১ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার পর গুদামের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা উন্নত করা হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আগের ঘটনার পরেও কীভাবে একই জায়গায় ফের অগ্নিকাণ্ড ঘটল, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠছে বিভিন্ন মহলে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিধায়ক দেবাশিস ধরের দাবি, গুদামটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল এবং সেখানে তেলজাতীয় কিছু সামগ্রী মজুত করা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, আগুন লাগার পিছনে ইচ্ছাকৃত কোনও কারণ থাকতে পারে এবং এর সঙ্গে তৃণমূলের যোগসূত্রও থাকতে পারে। তবে তাঁর এই অভিযোগের সত্যতা এখনও প্রমাণিত হয়নি।
দমকল সূত্রে খবর, আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। কীভাবে আগুনের সূত্রপাত, গুদামে কী ধরনের সামগ্রী মজুত ছিল এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না, তদন্তের মাধ্যমে সেই বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হবে।
আট মাসের ব্যবধানে একই গুদামে ফের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আগের দুর্ঘটনায় ১১ জনের মৃত্যুর স্মৃতি এখনও টাটকা। এবার অবশ্য এখনও পর্যন্ত প্রাণহানির কোনও খবর নেই। তদন্তের পরই আগুন লাগার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।


Recent Comments