Sharanya Ghosh: দুর্গাপুজোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন মহাসপ্তমী। এই দিন থেকেই বহু পুজোমণ্ডপে শুরু হয় দেবী দুর্গার বিশেষ আরাধনা। বাঙালির শারদোৎসবে মহাসপ্তমীর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো নবপত্রিকা স্নান। প্রাচীন ঐতিহ্য ও ধর্মীয় রীতি মেনে এই আচার পালন করা হয়, যার মধ্য দিয়ে দুর্গাপুজোর আনুষ্ঠানিকতা এক বিশেষ মাত্রা পায়।
হিন্দু শাস্ত্র ও প্রচলিত রীতি অনুসারে, মহাসপ্তমীর সকালে নবপত্রিকাকে পবিত্র গঙ্গার জলে স্নান করানো হয়। এরপর ধর্মীয় আচার মেনে তাঁকে পুজোমণ্ডপে নিয়ে আসা হয় এবং দেবী দুর্গার পাশে প্রতিষ্ঠা করা হয়। অনেক জায়গায় এই নবপত্রিকাকে ‘কলাবউ’ নামেও পরিচিত। নবপত্রিকা স্নানের এই প্রথা বাংলার দুর্গাপুজোর এক প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী অংশ।
নবপত্রিকা বলতে নয়টি উদ্ভিদের সমাহারকে বোঝায়। সাধারণত কলাগাছ, কচুগাছ, হলুদগাছ, জয়ন্তী, বেল, ডালিম, অশোক, মানকচু এবং ধানগাছ দিয়ে নবপত্রিকা প্রস্তুত করা হয়। এই নয়টি উদ্ভিদকে বিভিন্ন দেবীশক্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রকৃতি, কৃষি, উর্বরতা এবং জীবনের সমৃদ্ধির সঙ্গে এই রীতির গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
স্নানের পর নবপত্রিকাকে নতুন বস্ত্রে সজ্জিত করে পুজোমণ্ডপে প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণ ও নির্দিষ্ট ধর্মীয় বিধি মেনে শুরু হয় দেবী দুর্গার সপ্তমীর পুজো। ভোরের পবিত্র পরিবেশ, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি এবং ঢাকের আওয়াজে মুখরিত হয়ে ওঠে বাংলার বিভিন্ন পুজোমণ্ডপ।
মহাসপ্তমী শুধু একটি ধর্মীয় আচার পালনের দিন নয়, এটি বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধারও প্রতীক। নবপত্রিকা স্নানের মধ্য দিয়ে দেবী আরাধনার যে সূচনা হয়, তা দুর্গোৎসবের আনন্দ ও ভক্তিকে আরও গভীর করে তোলে।
দেবী দুর্গার আরাধনায় মহাসপ্তমীর এই প্রাচীন রীতি আজও বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিচয়ের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে রয়েছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই ঐতিহ্য দুর্গাপুজোর মাহাত্ম্যকে আরও সমৃদ্ধ করে।

Recent Comments