“মেয়ের বিয়ে সামনের মাসে, ভেবেছিলাম বাজেটের পর দাম একটু কমবে। কিন্তু উল্টে যা বাড়ল, তাতে তো গয়নার বাজেট অর্ধেক করে দিতে হবে!”—বউবাজারের একটি নামী জুয়েলারি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে আক্ষেপ করছিলেন গড়িয়াহাটের বাসিন্দা প্রদীপ মজুমদার। ১লা ফেব্রুয়ারি বাজেট পেশের পর থেকেই শেয়ার বাজারে ওঠানামা চলছে। আর তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে হলুদ ধাতুর ওপর। আজ কলকাতায় ২২ ক্যারেট সোনার দাম ভরিতে (১০ গ্রাম) প্রায় ৮০০ টাকা বেড়েছে, যা গত তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।
বউবাজারে ‘সোনা’র নীরবতা: শহরের স্বর্ণপট্টি বা গোল্ড হাব হিসেবে পরিচিত বউবাজারে আজ ক্রেতাদের আনাগোনা থাকলেও, কেনাকাটার উৎসাহে ভাটা পড়েছে। বেশিরভাগ মানুষই আসছেন দাম যাচাই করতে বা পুরনো সোনা বদলে নতুন গয়না গড়াতে। স্বর্ণ শিল্প বাঁচাও কমিটির এক সদস্য জানালেন, “দাম বাড়লেই বিক্রি কমে যায়, এটাই দস্তুর। কাস্টমাররা এখন হালকা ওজনের বা ‘লাইট ওয়েট’ গয়নার দিকে ঝুঁকছেন। ১০ গ্রামের বদলে ৫ বা ৬ গ্রামের নেকলেস খুঁজছেন সবাই।”
কেন এই মূল্যবৃদ্ধি? অর্থনীতিবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা এবং ডলারের তুলনায় টাকার দামের সামান্য পতনই সোনার দাম বৃদ্ধির মূল কারণ। এছাড়া, বাজেটে সোনার ওপর আমদানি শুল্ক (Import Duty) নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কিছু রদবদলও এই দাম বৃদ্ধিতে অনুঘটকের কাজ করেছে। বিশ্ববাজারেও বিনিয়োগকারীরা এখন নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনাকেই বেছে নিচ্ছেন, ফলে চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দামও চড়ছে।
মধ্যবিত্তের পকেটে টান: সামনেই বিয়ের লগ্ন। বাঙালি পরিবারগুলোতে এখন কেনাকাটার ধুম পড়ার কথা। কিন্তু সোনার এই লাগামছাড়া দাম অনেক পরিবারেরই হিসেব-নিকেশ উল্টে দিয়েছে। বারাসাতের এক গৃহবধূ বললেন, “ছেলের বিয়ের জন্য এক ভরি সোনার চেইন কেনার কথা ছিল। এখন যা দাম, তাতে মনে হচ্ছে আংটি কিনেই কাজ চালাতে হবে।” ব্যবসায়ীরাও চিন্তিত, কারণ দাম না কমলে চৈত্র সেলের বাজারেও সোনার দোকানে মাছি তাড়াতে হবে।
আপাতত যা পরিস্থিতি, তাতে সোনার দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। তাই প্রদীপ বাবুদের মতো মধ্যবিত্ত বাবা-মায়েদের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও গভীর হচ্ছে। সোনা এখন সত্যিই ‘সোনার পাথরবাটি’।
