মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে যখন বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, ঠিক তখনই ভারতের জন্য স্বস্তির খবর এসেছে। ইরান অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতীয় এবং ভারতের সঙ্গে যুক্ত তেলবাহী জাহাজগুলিকে নিরাপদে যাতায়াতের অনুমতি দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার আশা তৈরি হয়েছে।
জানা গিয়েছে, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার পরেই এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকা, ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত ব্যাহত হয়েছিল। এই পথ দিয়েই বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এবং বিপুল পরিমাণ তরল প্রাকৃতিক গ্যাস ও রান্নার গ্যাস পরিবাহিত হয়।
এই পরিস্থিতিতে ভারত দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ নেয়। দীর্ঘ আলোচনার পর ইরান জানিয়েছে, ভারতীয় বা ভারতের স্বার্থসংশ্লিষ্ট তেলবাহী জাহাজগুলিকে হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করতে দেওয়া হবে। তবে আমেরিকা, ইউরোপ এবং ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত জাহাজগুলির ওপর নিষেধাজ্ঞা এখনও বহাল রয়েছে।
ইতিমধ্যেই ‘পুষ্পক’ এবং ‘পরিমল’ নামের দুটি জাহাজ নিরাপদে প্রণালী অতিক্রম করেছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল বহনকারী একটি লাইবেরিয়ান পতাকাবাহী জাহাজও সফলভাবে এই পথ পেরিয়ে মুম্বাই বন্দরে পৌঁছেছে। সংঘাত শুরু হওয়ার পর এই প্রথম ভারতের উদ্দেশ্যে আসা কোনো তেলবাহী জাহাজ নিরাপদে এই রুট ব্যবহার করতে সক্ষম হল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের এই সিদ্ধান্ত ভারতের জন্য বড় স্বস্তির খবর। এর ফলে দেশে অপরিশোধিত তেল এবং রান্নার গ্যাসের সরবরাহ বজায় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। যদিও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে, তবু হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ যাতায়াতের সুযোগ ভারতের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহকে অনেকটাই স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

