বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলার রাজনৈতিক মহলে এক নিরন্তর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন প্রাক্তন তৃণমূল নেতা হুমায়ুন কবীর(Humayun Kabir)। তাঁর রাজনৈতিক কার্যকলাপ, যেমন সিপিএম (CPM)-এর সঙ্গে বৈঠক, নওশাদ সিদ্দিকী (Naushad Siddiqui)-র সঙ্গে আলোচনা, এবং ব্যক্তিগতভাবে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী (Adhir Chowdhury)-কে সমর্থন জানানোর মতো বিষয়গুলি রাজ্যজুড়ে চর্চিত। এরই মাঝে এবার হুমায়ুন কবীরের প্রস্তাবিত ‘বাবরি মসজিদ’ (Babri Masjid) নির্মাণ উদ্যোগকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক দানা বেঁধেছে। তৃণমূল (TMC) নেতার অনুদান এই বিতর্ককে আরও উস্কে দিয়েছে।
সম্প্রতি, মুর্শিদাবাদ (Murshidabad) জেলার এক তৃণমূল ব্লক (Block) সভাপতি হুমায়ুন কবীরের বাবরি মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। তিনি ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ইসলামিক ফাউন্ডেশন অব ইন্ডিয়া’ (West Bengal Islamic Foundation of India)-র ট্রাস্টের নামে একটি ব্যাঙ্ক চেক প্রদান করেছেন। এই ঘটনা রীতিমতো চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে রাজনৈতিক করিডোরে। বিশেষত, যেখানে তৃণমূল দল প্রকাশ্যে এই বাবরি মসজিদ নির্মাণের ধারণাকে বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে, সেখানে দলের একজন ব্লক সভাপতির এমন পদক্ষেপ দলের অভ্যন্তরীণ বিভেদকেই স্পষ্ট করছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
মাত্র এক সপ্তাহ আগেও মুর্শিদাবাদ জেলার চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল বিধায়ক নিয়ামত শেখ (Niyamat Sheikh) হুমায়ুন কবীরের এই বাবরি মসজিদ নির্মাণ প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। এবার কেবল মৌখিক সমর্থন নয়, নওদার এই ব্লক তৃণমূল সভাপতি সরাসরি আর্থিক অনুদান দিয়ে বিষয়টিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিলেন। দুই দিন আগে একটি জনসভা থেকে তিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছিলেন, “মসজিদ আমরাই তৈরি করব। মুর্শিদাবাদ জেলার মানুষ তৈরি করব।” এই ঘোষণার পরই তাঁর আর্থিক সাহায্যের খবর সামনে আসে।
উল্লেখ্য, বেশ কিছুদিন ধরে দলের বিরুদ্ধে একাধিক মন্তব্য করার কারণে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) হুমায়ুন কবীরকে সাসপেন্ড (suspend) করেছিল। সেই সময় দলের প্রবীণ নেতা ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim) স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন যে, বাবরি মসজিদ তৈরির অর্থ হলো পুরোনো বিতর্ককে পুনরায় জাগিয়ে তোলা এবং সমাজকে ধর্মান্ধতার দিকে ঠেলে দেওয়া। তৃণমূল এই ধরনের কাজে বিশ্বাস করে না। দলের তরফে বারবার বোঝানো হয়েছে যে, ধর্মের সঙ্গে রাজনীতিকে গুলিয়ে ফেলার এই সিদ্ধান্তকে তৃণমূল ভালো চোখে দেখছে না এবং এই বিষয়ে তাদের তীব্র আপত্তি রয়েছে।
ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শে বিশ্বাসী তৃণমূলের প্রতি এই ধরনের বিতর্কিত পদক্ষেপ জনমানসে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে, এবং আগামী দিনে এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ https://bengali.newscope.press/language-day-feature-4/

