তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে (বিশেষত নেতা কুণাল ঘোষ) একটি স্টিং ভিডিও সামনে এনে দাবি করা হয় যে, হুমায়ুন কবীর বাংলার মুসলিমদের বিভ্রান্ত করতে এবং মুসলিম ভোট ভাগ করার জন্য বিজেপির (BJP) কাছ থেকে ১,০০০ কোটি টাকা নেওয়ার চুক্তি করেছেন।
ভিডিওতে নাকি দাবি করা হয়েছে, তিনি ২০০ কোটি টাকা অগ্রিম নিয়েছেন এবং মুর্শিদাবাদে ‘বাবরি মসজিদ’ নির্মাণের নাম করে ধর্মীয় আবেগ ব্যবহার করে বিজেপির সুবিধা করে দেওয়ার ছক কষেছেন। ভিডিওতে পিএমও (PMO) বা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের প্রসঙ্গও রয়েছে বলে অভিযোগ।
হুমায়ুন কবীরের পাল্টা চ্যালেঞ্জ (‘১৯ নয়, ৫১ মিনিট’)
এই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর হুমায়ুন কবীর একটি সাংবাদিক বৈঠক করে সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দেন। এখানেই তিনি পুরো ভিডিওর প্রসঙ্গটি তোলেন।
এআই (AI) কারসাজি: তিনি দাবি করেন, তৃণমূল যে ভিডিওটি প্রকাশ করেছে, তা সম্পূর্ণ ভুয়া, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং অত্যাধুনিক ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে তৈরি করা ‘ডিপফেক’ ভিডিও।
হুমায়ুন কবীর বলেন, ভিডিওর কিছু অংশ এডিট করে বা কেটেকুটে ১৯ মিনিটের ভিডিও দেখালে চলবে না। সত্য সামনে আনতে হলে পুরো ৫১ মিনিটের আসল ভিডিওটি প্রকাশ করতে হবে।
তিনি তৃণমূলকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেছেন, যদি তারা এই অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারে, তবে তিনি তাদের বিরুদ্ধে ২,০০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করবেন।
রাজনৈতিক প্রভাব ও ফলাফল
এই স্টিং ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর রাজ্য রাজনীতিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রদবদল ঘটেছে
এই বিতর্কের জেরে আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল মিম (AIMIM) হুমায়ুন কবীরের দল এজেইউপি-র (AJUP) সঙ্গে তাদের নির্বাচনী জোট ভেঙে দিয়েছে। ওয়েইসি বাংলায় তার আসন্ন প্রচার কর্মসূচিও বাতিল করেছেন।
এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে অমিত শাহ সহ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলকে আক্রমণ করেছে। অন্যদিকে তৃণমূল দাবি করছে, বিজেপির আসল চেহারা এই ভিডিওর মাধ্যমেই ফাঁস হয়ে গেছে।
সংক্ষেপে, নির্বাচনের আগে এই “স্টিং অপারেশন” এবং “১৯ বনাম ৫১ মিনিটের” ভিডিওর তরজা রাজ্য রাজনীতিতে এক বিশাল বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। হুমায়ুন কবীরের দাবি, পুরো ভিডিও সামনে এলেই তৃণমূলের এই চক্রান্ত ফাঁস হয়ে যাবে।


Recent Comments