আপাতদৃষ্টিতে যাঁর চালচলন বা জীবনযাত্রায় আভিজাত্যের ছাপ স্পষ্ট, সেই মানুষটির নেপথ্যে লুকিয়ে রয়েছে পাহাড় সমান রহস্য। সম্প্রতি এক ব্যক্তির বিপুল সম্পত্তির হদিশ পেতে গিয়ে কার্যত চক্ষু চড়কগাছ হওয়ার জোগাড় হয়েছে তদন্তকারী অফিসারদের। স্বঘোষিত এই ‘পুষ্পা’ এবং তাঁর স্ত্রীর নামে থাকা একের পর এক সম্পত্তির দলিল দেখে রীতিমতো অবাক পুলিশ প্রশাসন। এখন প্রশ্ন উঠছে, আয়ের তুলনায় এত বিপুল সম্পত্তি এল কোথা থেকে?
সম্পত্তির বহর দেখে থমকে তদন্তকারীরা
তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে পুলিশ জানতে পেরেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং তাঁর স্ত্রীর নামে শুধু যে জমিজমা রয়েছে তা নয়, রয়েছে প্রচুর নগদ টাকা এবং ব্যাংক ব্যালেন্স। বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে থাকা বেনামি সম্পত্তির খোঁজ চালাচ্ছেন গোয়েন্দারা। এই সম্পত্তিগুলো কি বৈধ আয়ের উৎস থেকে তৈরি, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে কোনো অন্ধকার জগৎ? সেই রহস্যভেদে জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, গত কয়েক বছরে ওই ব্যক্তির জীবনযাত্রায় অভাবনীয় পরিবর্তন লক্ষ্য করা গিয়েছিল, যা অনেকের কাছেই ছিল বিস্ময়কর।
গুণ্ডাদমন বিলের খাঁড়ায় অভিযুক্ত?
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে রাজ্যের আইন অনুযায়ী ‘গুণ্ডাদমন বিল’ (Goonda Suppression Bill)-এর অধীনে অভিযুক্ত ব্যক্তির বেআইনি উপায়ে অর্জিত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার স্পষ্ট সংস্থান রয়েছে। যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে, এই বিপুল সম্পত্তি অপরাধমূলক কাজের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে, তবে সরকার তা বাজেয়াপ্ত করে নিলামে তুলতে পারে। পুলিশ প্রশাসনের একটি সূত্র জানাচ্ছে, অভিযুক্তকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তে নতুন মোড়
জাহাঙ্গির খান (Jahangir Khan)-এর কর্মকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরেই এলাকায় গুঞ্জন ছিল। কিন্তু পুলিশের খাতায় নাম ওঠার পর যে পরিমাণ দলিলের তথ্য বেরিয়ে আসছে, তা সবাইকে অবাক করেছে। এখন দেখার বিষয়, পুলিশ প্রশাসন কি সত্যিই এই সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার মতো বড় কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করে? নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনো রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী যোগসূত্র কাজ করছে, তা নিয়েও জোর চর্চা চলছে শহরজুড়ে।
ইতিমধ্যেই পুলিশ একাধিক নথিপত্র খতিয়ে দেখছে এবং প্রয়োজনবোধে অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হতে পারে। শহর বা জেলার (District) বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা এই সম্পত্তির উৎস খুঁজে বের করাই এখন তদন্তকারী টিমের প্রধান লক্ষ্য।


Recent Comments