back to top
Sunday, July 12, 2026
Leaderboard Ad Space (728x90) - Responsive
Homeরাজ্য ও রাজনীতিআবারও সমালোচনার কেন্দ্রে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন শিক্ষা মন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি , অভিযোগ শ্লীলতাহানির

আবারও সমালোচনার কেন্দ্রে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন শিক্ষা মন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি , অভিযোগ শ্লীলতাহানির

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আবারও অস্বস্তিতে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী তথা বেহালা পশ্চিমের প্রাক্তন বিধায়ক পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee)। এবার তাঁর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি, তোলাবাজি এবং খুনের হুমকির মতো গুরুতর অভিযোগ দায়ের হল ঠাকুরপুকুর (Thakurpukur) থানায়। শুধু পার্থ চট্টোপাধ্যায় একা নন, এই একই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে স্থানীয় প্রাক্তন কাউন্সিলর ঘনশ্রী বাগ (Ghanashree Bag) এবং আরও দুই সহযোগী তিলক ভট্টাচার্য (Tilak Bhattacharya) ও সুদীপ ঘোষকে (Sudip Ghosh)।

অভিযোগের প্রেক্ষাপট ও রহস্য

ঘটনাটি প্রায় ৬ বছর আগের, অর্থাৎ ২০২০ সালের। অভিযোগকারিণীর দাবি, সেই সময় তিনি প্রবল চাপের মুখে ছিলেন এবং তৎকালীন প্রভাবশালী নেতাদের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পাননি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। যেহেতু ঘটনাটি দীর্ঘ কয়েক বছর আগের, তাই পুলিশ ভারতীয় দণ্ডবিধিতেই (Indian Penal Code) মামলাটি নথিভুক্ত করেছে।

​পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগকারিণী ঠাকুরপুকুর রোডের বাসিন্দা। তাঁর শ্বশুর ছিলেন একজন বিজেপি (BJP) নেতা। ২০২০ সালের ২৩ জানুয়ারি ঠাকুরপুকুরের বাছারপাড়ায় (Bacharpara) একটি গোলমালের ঘটনা ঘটে, যেখানে এক যুবক আহত হন। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি ছিল, ওই যুবক তাদের দলের সদস‌্য। সেই ঘটনায় ওই মহিলার শ্বশুর কোনোভাবেই যুক্ত ছিলেন না। অভিযোগ, এরপরেই সুদীপ, ঘনশ্রী এবং তিলকরা গিয়ে বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে মিথ‌্যা অভিযোগ দায়ের করেন এবং তাঁকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তাঁকে প্রথমে পুলিশ হেফাজত ও পরবর্তীতে জেল হেফাজতে পাঠানো হয়।

মানসিক চাপ ও আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ

অভিযোগকারিণীর দাবি, যখন তিনি এবং তাঁর স্বামী এই গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানান, তখন পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং ১২৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর ঘনশ্রী বাগ তাঁদের ডেকে চুপ করে থাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। এই ঘটনার জেরে তাঁদের পারিবারিক ব্যবসা প্রায় ৬ মাসের জন্য বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে তাদের প্রায় ৪০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয় বলে অভিযোগ।

আরো পড়ুন:  পরীক্ষার্থীদের জন্য বিমানবন্দরে ৪৫ মিনিট অপেক্ষা মোদীর, নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত

​এখানেই শেষ নয়, বাবাকে জেল থেকে ছাড়িয়ে দেওয়ার মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই নেতার ছেলের কাছ থেকে প্রাক্তন কাউন্সিলর ২৫ লাখ টাকা তোলা আদায় করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এরপর থেকে ওই পরিবারের কাছ থেকে ঘনশ্রী এবং তিলক আরও এক কোটি টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকার করায় তাঁদের খুনের হুমকিও দেওয়া হয়। ২০২০ সালের জুলাই মাসে জেল হেফাজতেই ওই বিজেপি নেতার মৃত্যু হয়। অভিযোগ, সেই ঘটনার পরেও বিভিন্ন সময় তাঁদের পরিবারকে হেনস্থা করা হয়েছে।

পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ

নতুন করে অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর ঠাকুরপুকুর থানা তদন্ত শুরু করেছে। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে পুলিশ তদন্তের জাল গুটাচ্ছে। প্রয়োজনে অভিযুক্তদের তলব করা হতে পারে বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই মামলা যে নতুন করে উত্তাপ ছড়াবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

Author

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Demo Ad
Sponsored Links

Most Popular

Recent Comments