অশোক সেনগুপ্ত
“দুর্নীতি গ্রাস করলে উচ্চশিক্ষার অধঃপতন অবশ্যম্ভাবী। তখন যোগ্যতা, মেধার মান লোকে ভুলে যায়। পশ্চিমবঙ্গে আর সেটা হতে দেবো না”। রবিবার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘নিখিল বঙ্গ অধ্যক্ষ পরিষদ’-এর ৩৪-তম বার্ষিক সম্মেলনে এ কথা বললেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী ডঃ স্বপন দাশগুপ্ত।

সম্মেলনে উদ্বোধনী ভাষণে তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষামন্ত্রী আমি নই। কিন্তু এই ক্ষেত্রে আগ্রহ আছে। পশ্চিমবঙ্গের উন্নতি করতে গেলে শিক্ষার উন্নতি করতে হবে। পরিকাঠামো সাজাতে হবে। অন্যথায় অর্থনীতির উন্নতি হবে না। বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা আমার কাছে নিয়মিত আসেন। ওঁদের কথা শুনি। কত ধরণের, কত গোত্রের যে শিক্ষক রয়েছেন, আজও বুঝে উঠতে পারছি না।”

স্বপনবাবু বলেন, “গত এক দেড় দশকে উচ্চশিক্ষাজগতের সব জগাখিচুড়ি করে দিয়েছে। এই জট ছাড়াতে হবে। এ ব্যাপারে অধ্যক্ষদের ইতিবাচক ভূমিকা নিতে হবে। আপনাদের ফুটসোলজারদের দিকে তাকাতে হবে। ওঁরাও আপনাদের ‘র মেটেরিয়াল’।
অর্থমন্ত্রী বলেন, “একসময় এই রাজ্য ছিল উচ্চশিক্ষায় খ্যাতির ঊর্ধসীমায়। কী কী কারণে ওই খ্যাতি চলে গেল, তা বুঝতে হবে। অনুভব করতে হবে সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষায় এ রাজ্যের অবস্থান কোথায়? ভোল বদলাতে গেলে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীকে হয়তো অপ্রিয় কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। গতকাল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপর এক অনুষ্ঠানে বলেছি, একসময় সারা দেশ থেকে পড়ুয়া-শিক্ষকরা এ রাজ্যে আসতেন। এখন আসেন না। আমাদের মানসিক গণ্ডীর পরিসর বাড়াতে হবে।”

এদিন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির ভাষণে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডঃ আশুতোষ ঘোষ মন্ত্রীর মন্তব্যকে সমর্থন করে বলেন, “সত্তরের দশকে আমরা যখন এখানকার পড়ুয়া ছিলাম, তখনকার মতো আকর্ষণীয় শিক্ষার পরিবেশ পশ্চিমবঙ্গে আর নেই। ধৌলি এক্সপ্রেস করে দলে দলে বাংলার পড়ুয়ারা ওডিশার বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পড়তে যাচ্ছে। পরিস্থিতিটা বিভিন্ন কলেজের অধ্যক্ষদের ভাবতে হবে।”
উপাচার্য বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের কলেজগুলোয় স্নাতকস্তরে এমনিতেই ভর্তি কম হচ্ছে। তার ওপর অনেকে ক্লাশ করছে না।‘ ড্রপ আউট হচ্ছে। কেন এই অবস্থা? কলেজ-অধ্যক্ষদের এই পরিস্থিতি অনুধাবন করতে হবে।”

এদিনের অনুষ্ঠানের আয়োজক কমিটির সভাপতি ডঃ পঙ্কজ রায় ১৯৪৭-এর ২০ জুন হিন্দুদের হোমল্যান্ড তৈরিতে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান এবং গত ৪ মে এ ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ইতিবাচক মনোভাবের প্রশংসা করেন। স্বাগত ভাষণে পঙ্কজবাবু বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বন্দে মাতরম’-এর সার্ধ শতবর্ষের উল্লেখ করে বলেন, একটা সময়ে তৎকালীন রেঙ্গুন পর্যন্ত মাধ্যমিক স্তরের পরীক্ষা নিত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। এখন এ রাজ্যের সেই সমৃদ্ধ শিক্ষাব্যবস্থার অন্তর্জলীযাত্রা হয়েছে। নিখিল বঙ্গ অধ্যক্ষ পরিষদ সেই শিক্ষার পরিবেশ কলুষমুক্ত করব।”
এদিনের অনুষ্ঠান শুরু হয় ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশন ও মঞ্চে রাখা টবের গাছে জল দিয়ে। অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আঁকা ‘ভারতমাতা’-র এবং সেটির দুপাশে আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বাঁধানো ছবিতে শ্রদ্ধা জানান মঞ্চের বিশিষ্টরা।
অনুষ্ঠানে বক্তাদের মধ্যে ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাসমূহের নিয়ামক জয়ন্ত কুমার সিনহা। ধন্যবাদ জানান প্রবীন অধ্যক্ষ রামকৃষ্ণ চক্রবর্তী। অনুষ্ঠান শেষ হয় ‘জনগণমন অধিনায়ক’ পরিবেশনের মাধ্যমে।
রাজ্যের বিভিন্ন কলেজের অধ্যক্ষরা এদিনের সমাবেশে অংশ নেন। তৈরি হয় ‘নিখিল বঙ্গ অধ্যক্ষ পরিষদ’-এর নয়া কর্মসমিতি।


Recent Comments